তৃণমূলের অন্দরে চরম ফাটল! চার্টার্ড ফ্লাইট নিয়ে কুণালের নিশানায় অভিষেক, পাল্টা জবাব ‘ডায়মন্ড হারবারের’ সাংসদের

তৃণমূল কংগ্রেসের তহবিল ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিতর্ক এখন চরমে। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী বিধায়কদের অভিযোগ এবং তার মধ্যেই চার্টার্ড ফ্লাইটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি যাত্রা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর। দলের অন্দরের এই সংঘাত এখন জনসমক্ষে এসে পৌঁছেছে।

কী নিয়ে বিতর্ক? তৃণমূলের বেশ কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য ঋতব্রতপন্থী ১০ জন বিধায়ক বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “দলের কাটমানি বা দুর্নীতির টাকা কি চার্টার্ড ফ্লাইটের ভাড়ায় খরচ হচ্ছে?” এই প্রশ্নটিই দলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

কুণালের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য: এই বিতর্ক চলাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি যাত্রা নিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “অভিষেক কোন বিমানে গিয়েছেন, তা নিয়ে আমার মন্তব্য করার এক্তিয়ার নেই। তবে পার্টির টাকায় যদি কেউ বিমান ভাড়া করে গিয়ে থাকেন, তবে আমি সেটা কোনোভাবেই সমর্থন করি না।” কুণালের এই মন্তব্যকে অভিষেকের প্রতি সরাসরি আক্রমণ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

অভিষেকের পাল্টা জবাব: সংবাদমাধ্যমের সামনে এই প্রশ্নের জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা আমার ভ্রমণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা লিখিত দিলে আমি ইকোনমি ক্লাসে যেতে পারি। কুণাল ঘোষ আমার সহকর্মী, তিনি আমার বিরুদ্ধে কথা বললেও আমি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কটু কথা বলব না।” অভিষেকের এই কৌশলী প্রতিক্রিয়া বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

পটভূমি: উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই কালীঘাটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে কুণাল ঘোষ ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা হয়েছিল, যা থামাতে নেত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। আর্থিক দুর্নীতি ও চার্টার্ড ফ্লাইটের এই নতুন বিতর্ক তৃণমূলের অন্দরের সেই ভাঙনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনে নির্বাচন। তার আগে দলের তহবিল সংক্রান্ত এই বিতর্ক এবং নেতাদের পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিত্তিকে চরম দুর্বল করে দিচ্ছে।