টাকার পাহাড় কাঁচরাপাড়ার স্কুলে! ১.৭৭ কোটির পর এবার মিলল আরও ৮ লক্ষ, রহস্যের কিনারা কোথায়?

কাঁচরাপাড়ার সেই বিতর্কিত ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ফের উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ। কয়েকদিন আগেই ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা ও জন্মনিরোধক প্যাকেট উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, বৃহস্পতিবার রাতে ওই স্কুলের অন্য একটি ঘর থেকে আরও ৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার করল পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কীভাবে উদ্ধার হলো টাকা? গত ১০ জুন বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাসের নেতৃত্বে পুলিশের তল্লাশিতে ওই স্কুল থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়েছিল। ওই ঘটনায় জড়িতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় পুলিশ ফের স্কুলের অন্দরে তদন্তে যায়। তখনই স্কুলের একটি ঘর থেকে ওই ৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। এই টাকা কার এবং কেন স্কুলের আলমারিতে তা মজুত ছিল, তা নিয়ে জোরালো তদন্ত শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: ঘটনাটি নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাসের অভিযোগ, “আমরা আগেই বলেছিলাম, বীজপুর ও কাঁচরাপাড়ার বিভিন্ন স্কুলকে তৃণমূল নেতারা টাকা ও অস্ত্র লুকানোর সেফ হাউস বা নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছেন। ওই স্কুলের পরিচালন সমিতিতে প্রাক্তন বিধায়ক সুবোধ অধিকারী এবং প্রাক্তন পুরপ্রধান কমল অধিকারীর পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ওই টাকা মূলত তাঁদেরই।”

স্কুলের আড়ালে কী চলছে? উল্লেখ্য, গত ১০ জুনের তল্লাশিতে শুধু টাকাই নয়, স্কুলের অফিস রুমের পাশের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সুসজ্জিত বেডরুম থেকে কন্ডোমের প্যাকেটও উদ্ধার হয়েছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরনের বিলাসিতা ও বেআইনি কার্যকলাপের ঘটনায় রীতিমতো বিড়ম্বনায় পড়েছেন স্কুলের অধ্যক্ষ বিকাশচন্দ্র পাল।

পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতদের জেরা করে উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তার শিকড় খোঁজার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় মানুষের প্রশ্ন—যে স্কুলে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই স্কুলকে কেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল করে তোলা হয়েছিল? এই ঘটনায় আরও বড় কোনো তথ্য বেরিয়ে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।