সিকিমের এই ছোট্ট গ্রামেই লুকিয়ে রয়েছে ‘সুইজারল্যান্ড’, পাহাড়প্রেমীদের জন্য সেরা ঠিকানা!

গ্যাংটক থেকে জুলুক যাওয়ার পথে পাহাড়ের বাঁকে লুকিয়ে থাকা এক শান্ত জনপদ, যাকে পর্যটকরা ভালোবেসে নাম দিয়েছেন ‘সিকিমের সুইজারল্যান্ড’। এখানে আধুনিক শহরের ইঁদুরদৌড় নেই, নেই ৫-স্টার হোটেলের কৃত্রিম আড়ম্বর। পরিবর্তে রয়েছে মেঘেদের আনাগোনা, কাঞ্চনজঙ্ঘার হাতছানি আর পাহাড়ি মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা। যারা কোলাহল থেকে দূরে কয়েকটা দিন নিস্তব্ধ প্রকৃতির মাঝে কাটাতে চান, তাদের জন্য এই গ্রামটি হতে পারে সেরা গন্তব্য।
থাকার জন্য এখানে রয়েছে তিনটি বিশেষ বিকল্প। প্রথমত, প্রিমিয়াম রিসর্ট যেমন ‘ডামসাং ফোর্ট রিট্রিট’ বা ‘নেওরা ভ্যালি রিসর্ট’। কাচের দেওয়ালঘেরা ব্যালকনিতে বসে মেঘের সমুদ্র দেখার অভিজ্ঞতা এখানে অনবদ্য। ভাড়া ২৫০০ থেকে ৪০০০ টাকার মধ্যে। পরিবার বা কাপলদের জন্য এটি আদর্শ। দ্বিতীয়ত, বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য রয়েছে কাঠের হোমস্টে— ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা হোমস্টে’ বা ‘মাউন্টেন ব্রিজ হোমস্টে’। স্থানীয় লেপচা বা ভুটিয়া পরিবারের সাথে থাকা, দিদির হাতের গরম সেল রোটি আর গুন্দ্রুকের তরকারি খাওয়ার স্বাদ ভোলা দায়। জনপ্রতি ১২০০-১৮০০ টাকায় খাওয়া-দাওয়া সহ এই অভিজ্ঞতা পকেটের ওপর চাপ ফেলে না। তৃতীয়ত, যারা একান্ত নিভৃতবাস বা হানিমুনের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজছেন, তাদের জন্য রয়েছে ‘জুলুক গ্রিনস’-এর মতো বুটিক ইকো রিসর্ট। পাইন বনের মাঝে কটেজে রাত কাটানো এবং তারাভরা আকাশ দেখার এক অপূর্ব সুযোগ মেলে এখানে।
খাবারের মেনুতে রয়েছে স্থানীয় সিকিমিজ স্বাদ আর সুইস ফিউশনের এক দারুণ মেলবন্ধন। থুকপা, ফাগশাপা, চুরপি এবং পাহাড়ি মশলায় তৈরি রোস্টির স্বাদ আপনার ভ্রমণকে সম্পূর্ণ করবে। পাহাড়ের ঠান্ডায় এক কাপ গরম হিমালয়ান ব্রু কফি বা হট চকলেট যেন অমৃত।
ভ্রমণ আরামদায়ক করতে তিনটি বিশেষ টিপস মনে রাখুন: এক, সিজন বুঝে ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন। মার্চ-মে বা অক্টোবর-নভেম্বর পিক সিজন, তাই অন্তত এক মাস আগে বুকিং সারুন। অফ-সিজনে অন্তত ৩০% ডিসকাউন্ট পেতে পারেন। দুই, বুকিংয়ের সময় অবশ্যই ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা ভিউ রুম’ ডিমান্ড করুন, সামান্য কিছু টাকা বেশি দিয়ে এই ভিউ রুম না নিলে পরে আফসোস হতে পারে। তিন, শীতের সময় গেলে রুম হিটার বা ইলেকট্রিক ব্ল্যাঙ্কেট আছে কিনা তা আগেভাগে নিশ্চিত করুন, কারণ রাতে তাপমাত্রা প্রায় ০ ডিগ্রিতে নেমে যায়।
সাজং বা এই পাহাড়ি গ্রামে কাটানো মানে কেবল ঘুমানো নয়, বরং পাখির ডাকে ঘুম ভাঙা আর পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের খেলা দেখা। বিলাসিতা নয়, বরং প্রকৃতির সান্নিধ্য যারা ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই গন্তব্য এক স্বপ্নপুরী। তাই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন, পাহাড় আপনাকে ডাকছে!