SBI-এর বড় চাল! এনএসই আইপিও-তে খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য থাকছে বড় সুযোগ, জানুন বিস্তারিত

ভারতের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। দীর্ঘ এক দশকের টানাপোড়েন এবং আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে দেশের বৃহত্তম স্টক এক্সচেঞ্জ ‘ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ অফ ইন্ডিয়া’ (NSE) তাদের আইপিও (IPO) আনার প্রক্রিয়া শুরু করল। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI)-র কাছে এনএসই তাদের ড্রাফট রেড হেরিং প্রসপেক্টাস (DRHP) জমা দিয়েছে। বাজার সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই মেগা পাবলিক ইস্যুটির আকার প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা বা ৩ বিলিয়ন ডলার হতে পারে, যা ভারতীয় শেয়ার বাজারের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম সংযোজন।

সেবির কাছে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, এই আইপিও-টি সম্পূর্ণভাবে একটি ‘অফার ফর সেল’ (OFS) ভিত্তিক। অর্থাৎ, এই প্রক্রিয়ায় এনএসই নিজে কোনো নতুন মূলধন সংগ্রহ করবে না, বরং এক্সচেঞ্জের বর্তমান ১০টি বড় প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার তাদের হাতে থাকা প্রায় ১৪.৯ কোটি ইক্যুইটি শেয়ার বাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ছেড়ে দেবে। এই বিক্রয় তালিকায় শীর্ষে রয়েছে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)। এসবিআই তাদের নিজস্ব পোর্টফোলিও থেকে প্রায় ২.৪৮ কোটি শেয়ার এবং তাদের সহযোগী শাখা এসবিআই ক্যাপিটাল মার্কেটস আরও ৫৩.৬২ লক্ষ শেয়ার বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্যান্য প্রধান বিক্রেতাদের তালিকায় রয়েছে এমএস স্ট্র্যাটেজিক মরিশাস, টাইগার গ্লোবাল, কানাডা পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ড এবং ব্যাঙ্ক অফ বরোদার মতো বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এনএসই-র একক বৃহত্তম অংশীদার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (LIC) এই আইপিও-তে তাদের কোনো শেয়ার বিক্রি করছে না। ২০১৬ সালে প্রথমবার আইপিও-র আবেদন করার পর, তৎকালীন ‘কো-লোকেশন’ কেলেঙ্কারি ও অ্যালগো-ট্রেডিং বিতর্কের জেরে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘকাল স্থগিত ছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াই ও অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো সংস্কারের পর, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সেবি-র দেওয়া চূড়ান্ত অনুমোদনের (NOC) পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হলো।

এনএসই-র আর্থিক সক্ষমতাও এই মুহূর্তে তুঙ্গে। ২০২৬ অর্থবর্ষে কোম্পানির কার্যক্ষমতা থেকে আয় হয়েছে ১৬,৬০১ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১০,৩০২ কোটি টাকায়। বিশ্বজুড়ে ইক্যুইটি ডেরিভেটিভস ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে তারা বর্তমানে শীর্ষস্থানে রয়েছে। গ্রের বাজারে (Grey Market) ইতিমধ্যেই এনএসই-র মূল্যায়ন ৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। কোডাক মাহিন্দ্রা ক্যাপিটাল, জেএম ফাইন্যান্সিয়াল, মরগ্যান স্ট্যানলি এবং সিটি ব্যাঙ্কের মতো বিশ্বমানের মার্চেন্ট ব্যাংকাররা এই আইপিও পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। সেবির চূড়ান্ত সিলমোহর মিললেই আগামী কয়েক মাসের মধ্যে খুচরো বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজারের এই মহাযজ্ঞে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।