অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা কবে ঢুকবে অ্যাকাউন্টে? দিনক্ষণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্যের মহিলাদের জন্য চালু হওয়া উচ্চাভিলাষী ‘অন্নপূর্ণা প্রকল্প’ নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় একটি সরকারি কর্মসূচি থেকে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, কবে জুন মাসের অনুদান পাবেন প্রকল্পের উপভোক্তারা। রাজ্যের বহু মহিলা যাঁরা জুন মাসে আবেদন করেও টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন, তাঁদের জন্য ১ জুলাই তারিখটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যে শাসক পরিবর্তনের পর থেকেই মহিলাদের ক্ষমতায়ন এবং স্বনির্ভরতা বাড়াতে নতুন সরকার বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যেই ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা প্রকল্প’ শুরু করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন ২৮ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে এর বাইরেও আরও ১ কোটি ৫ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁদের নথিপত্র যাচাই বা ভেরিফিকেশনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সরকারি পোর্টালে আপলোড করে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, এই ১ কোটি ৫ লক্ষ মা-বোন আগামী ১ জুলাই জুন মাসের ৩ হাজার টাকা তাঁদের নিজ নিজ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন।

টাকা পাওয়া নিয়ে যাতে কোনো উপভোক্তা বিভ্রান্ত না হন, সে বিষয়েও তিনি সকলকে আশ্বস্ত করেছেন। শুভেন্দু অধিকারী জানান, অন্নপূর্ণা প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা পাওয়া নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। যাঁরা প্রকৃত উপভোক্তা, তাঁরা নিয়ম মেনেই ১ জুলাই টাকা পেয়ে যাবেন। পাশাপাশি, যাঁরা এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাননি, তাঁদের জন্য তিনি বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আয়োজিত ‘জনকল্যাণ শিবিরে’ গিয়ে মহিলারা সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। এই ফর্ম পূরণ থেকে শুরু করে যাবতীয় সহায়তার জন্য সরকারি আধিকারিকরা ক্যাম্পে উপস্থিত থাকবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই পুরনো ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পরিবর্তে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। আগের সরকারের আমলে যেখানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা ১,৫০০ টাকা এবং অনগ্রসর শ্রেণির মহিলারা ১,৭০০ টাকা পেতেন, সেখানে বর্তমান বিজেপি সরকারের নতুন প্রকল্পে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলার মহিলাদের স্বনির্ভর করতে গেরুয়া শিবির এই বিশাল অঙ্কের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কাজ শুরু করেছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে যাতে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি প্রকল্পের সুবিধা না নিতে পারে। জুলাইয়ের ১ তারিখ এই প্রকল্পের দ্বিতীয় দফার বিশাল পেমেন্ট বাংলার মহিলা সমাজকে বড় স্বস্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।