মেসির সৌজন্যে আন্তর্জাতিক তারকা অরূপ বিশ্বাস! বিতর্কিত মন্তব্যে বিঁধলেন দিলীপ ঘোষ

কলকাতায় লিওনেল মেসির আগমনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। সেই বহুচর্চিত ‘মেসি-কাণ্ড’ নিয়ে এবার তলব করা হয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। অভিযোগ, এর আগে তিনবার সমন এড়িয়ে গেলেও, অবশেষে এদিন তিনি হাজিরা দিতে বাধ্য হয়েছেন। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রীর এই হাজিরা নিয়ে এবার তোপ দাগলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।

মেসি যখন কলকাতায় এসেছিলেন, তখন সেই অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই সূত্র ধরেই অরূপ বিশ্বাসকে তলব করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। বারবার হাজিরা এড়ানোর পর শেষমেশ অরূপ বিশ্বাসের হাজিরা নিয়ে দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, “মেসির সৌজন্যে অরূপ বিশ্বাস এখন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন! তবে মেসি তো বড় মাপের মানুষ, তিনি জানেনও না যে তাঁকে কেন্দ্র করে রাজ্যে কী সব খেলা চলছে।”

দিলীপ ঘোষ এখানেই থামেননি। তিনি আরও যোগ করেন, “এর আগে তিনবার তিনি ডাক এড়িয়েছেন, কেন এড়িয়েছেন তা সবাই জানে। এখন যখন আইনের চাপ বেড়েছে, তখন বাধ্য হয়ে হাজির হয়েছেন। কিন্তু অরূপবাবু মনে রাখবেন, মেসি মাঠে গোল করার জন্য বিশ্বখ্যাত, আর এখানে গোলমাল পাকানোর জন্য অনেকেই বিখ্যাত।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, অরূপ বিশ্বাসের এই হাজিরাকে হাতিয়ার করে শাসকদলের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে বিজেপি। দিলীপ ঘোষের মতে, রাজ্যের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির শিকড় এত গভীর যে, তা ঢাকতে এখন হিমশিম খাচ্ছে তৃণমূল। মেসিকে কেন্দ্র করে যে আবেগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল, তাকেও এই রাজনীতির লড়াইয়ে টেনে আনা হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

অন্যদিকে, অরূপ বিশ্বাসের হাজিরাকে ঘিরে এদিন সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের বাইরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। তিনি তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়ে কী কী তথ্য দিয়েছেন, তা নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ তদন্তকারীরা। তবে সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের বয়ানে কিছু অসঙ্গতি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেসি অনুষ্ঠানের আয়োজক সংস্থা এবং তৎকালীন ক্রীড়ামহলের কর্তাব্যক্তিদের সাথে অরূপ বিশ্বাসের যোগসূত্র এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়গুলোই এই তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই পুরো বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, বিরোধীরা কোনো ইস্যু খুঁজে না পেয়ে অরূপ বিশ্বাসকে হেনস্থা করার জন্য কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করছে। কিন্তু দিনের শেষে, মেসির মতো এক বিশ্বজয়ী তারকাকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই রাজনৈতিক জলঘোলা সাধারণ মানুষের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন রয়েই গেল। তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।