‘অন্যায় দেখলে তরুণরা গর্জে উঠবেই!’ নিট আন্দোলন নিয়ে মুখ খুলে কী বললেন নির্মলা সীতারামন?

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং টানা এক মাসের ছাত্র আন্দোলনের জেরে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দেওয়ার পরেই এবার এই গোটা ইস্যু নিয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অন্যায় বা ভুল কিছু দেখলে তরুণ প্রজন্ম গর্জে উঠবেই এবং সরকার কখনই এই আন্দোলনকে दबाবার বা থামানোর চেষ্টা করেনি। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করেছেন নিজের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU)-এর ছাত্র জীবনের দিনগুলিও।
আন্দোলন ও ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে যা বললেন নির্মলা
সাক্ষাৎকারে নিজের জেএনইউ-এর ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতা টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, “প্রতিটি প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরাই আদর্শহীন বা ভুল কিছু দেখলে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। তারা সব সময় সঠিক, দ্রুত এবং কার্যকরী পদক্ষেপ চায়, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং যুক্তিযুক্ত।”
তিনি পরিষ্কার করে জানান, কেন্দ্র সরকার এই ছাত্র আন্দোলনকে কখনওই হালকাভাবে নেয়নি বা তা জোর করে বন্ধ করার চেষ্টা করেনি। বরং যথাযথ নিয়ম ও অনুমতি নিয়েই পড়ুয়াদের বিক্ষোভ করতে দেওয়া হয়েছিল। তবে এই পুরো পরিস্থিতি থেকে সরকারেরও অনেক কিছু শেখার আছে বলে স্বীকার করে নেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর মতে, সরকারের সবসময় মাটির কাছাকাছি থাকা উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজের মনের কথা সহজে উপলব্ধি করা যায়।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নিয়ে কী বললেন অর্থমন্ত্রী?
প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের পর কেন সঙ্গে সঙ্গে ইস্তফা দেননি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, এবং কেনই বা তাঁর ইস্তফা দিতে কিছুটা সময় লাগল—এই প্রশ্নের মুখে পড়ে অর্থমন্ত্রী জানান, কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর সরকারের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য ছিল অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের একটি পুরো বছর নষ্ট না করে পুনরায় পরীক্ষা (Re-NEET) সুনিশ্চিত করা।
নির্মলা সীতারামনের কথায়, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সেই পুনর্মূল্যায়ন ও পুনরায় পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। যদি তিনি পরীক্ষা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করতেন, তবে তা পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রতি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ হতো।
জেন-জি ও আইনি বাধ্যবাধকতা
সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন প্রজন্মের (Gen Z) প্রতিবাদের ভাষা এবং তাদের ক্ষোভ প্রকাশের ধরণ নিয়েও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি স্বীকার করেন যে, বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সরকারের ভাষা আরও অনেক বেশি সহজ ও সাবলীল হওয়া প্রয়োজন। তবে এর পাশাপাশি আইনি বাধ্যবাধকতার দিকটিও মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “সরকার যখন কোনো বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করে, তখন তা আদালতের আইনি পর্যালোচনার মুখে পড়তে পারে। তাই সরকারের বক্তব্য এমন হতে হয় যা আইনানুগভাবে আদালতে টিকতে পারে; চাইলেও খুব হালকা বা অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।”
দেশজুড়ে চলা এই মেগা ছাত্র আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের পর অর্থমন্ত্রীর এই ভারসাম্যপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।