ভারতীয় রেলের অনলাইন টিকিট বুকিং ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের যাত্রী-অভিযোগের অবসান ঘটতে চলেছে। সার্ভার বিভ্রাট, ওটিপি সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা তৎকাল টিকিট কাটার সময় ওয়েবসাইট ক্র্যাশ করার মতো সমস্যার সমাধানে এবার আমূল পরিবর্তনের পথে আইআরসিটিসি (IRCTC)। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘোষণা করেছেন যে, আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যেই রেলের জন্য একটি নতুন ও উন্নত ওয়েবসাইট চালু করা হবে।
সম্প্রতি জয়পুরের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রেলমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি করেন। অনুষ্ঠানে এক ছাত্র ক্যাপচা সমস্যাসহ ওয়েবসাইট সংক্রান্ত একাধিক অসুবিধার কথা রেলমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। ছাত্রছাত্রীদের এই সমস্যার গুরুত্ব বুঝে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে রেলের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর এই ঘোষণায় উপস্থিত ছাত্রছাত্রীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে ভারতীয় রেলের অনলাইন টিকিট বুকিং পরিষেবা যাত্রা শুরু করেছিল। বর্তমানে প্রায় ৮৮ শতাংশ রেলের টিকিট অনলাইনেই বুক করা হয়। যাত্রীদের এই বিপুল চাপের কারণেই অনেক সময় পুরনো ওয়েবসাইটটি ঠিকমতো কাজ করে না। এই নির্ভরশীলতা কমাতে এবং পরিষেবাকে আরও মসৃণ করতেই রেল মন্ত্রকের এই উদ্যোগ।
পাশাপাশি, রেলের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতেও জোর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। গত ২০২৫ সালে প্রায় ৩ কোটি ৪ লক্ষ আইআরসিটিসি অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, যেগুলোর বিরুদ্ধে সন্দেহজনক কার্যকলাপের অভিযোগ ছিল। এছাড়া ২ কোটি ৯৪ লক্ষ অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পুনরায় যাচাই করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। খাবারের গুণগত মান বজায় রাখতেও রেল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। দেশের ৮০০টিরও বেশি রান্নাঘরে বসানো হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩৯৪টি এআই ক্যামেরা। দিল্লির কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে, যা খাবার তৈরির সময় পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত ৯টি ভিন্ন ধরণের অনিয়ম ধরতে সক্ষম। সব মিলিয়ে, ডিজিটাল পরিষেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে রেলের সামগ্রিক অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত ও যাত্রী-বান্ধব করাই লক্ষ্য।





