আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। তবে এই অধিবেশন কেবল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু নয়, বরং হয়ে উঠতে চলেছে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী। বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু চণ্ডীগড়ে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ)-এর সম্মেলন থেকে ফেরার পরই বিধানসভাকে আধুনিক ও জনমুখী করার একগুচ্ছ যুগান্তকারী সংস্কারের ঘোষণা করেছেন। অধ্যক্ষের লক্ষ্য—আগামী ১০০ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাকে ‘পেপারলেস’ বা সম্পূর্ণ ই-বিধানসভায় রূপান্তর করা।
নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় বিধানসভার দৈনন্দিন কাজে কাগজের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। বিধায়কদের সামনে থাকবে আধুনিক ট্যাব, যার মাধ্যমে তাঁরা সমস্ত কার্যতালিকা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব দেখতে পাবেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আসন্ন অধিবেশন থেকেই বিধানসভার সমস্ত কার্যবিবরণী সরাসরি সম্প্রচার (Live Streaming) করা হবে, যা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সম্মতিক্রমেই বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের কাজের খতিয়ান সরাসরি দেখতে পাবেন এবং নিজের এলাকার বিধায়ককে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগও পাবেন।
অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ দেশের ৩৩তম রাজ্য হিসেবে এই ডিজিটাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নতুন বিধায়কদের সংসদীয় রীতিনীতি ও কার্যপ্রণালী শেখাতে বাজেট অধিবেশনের পরেই দু’দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মশালায় দেশের অভিজ্ঞ সংসদীয় বিশেষজ্ঞরা নবীনদের পাঠ দেবেন। অধ্যক্ষের কথায়, “প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের দূরত্ব ঘোচানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
জনতার সঙ্গে আইনসভার সেতুবন্ধনে স্পিকার কিছু অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আগামী ১৮ তারিখের অধিবেশনে আলিপুরদুয়ারের ১০০ জন স্কুলছাত্র-ছাত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে অধিবেশন দেখার জন্য। এছাড়াও প্রবীণ নাগরিক এবং ল’ কলেজের পড়ুয়াদেরও নিয়মিত দর্শকাসনে উপস্থিত থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিধানসভার ঐতিহাসিক সংগ্রহশালাও নির্দিষ্ট নিয়মে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে। সংবাদমাধ্যমের পরিকাঠামোগত উন্নতির জন্য অধ্যক্ষ সাংবাদিকদের কাছ থেকে লিখিত পরামর্শ চেয়েছেন। বিধানসভার প্রতিটি কাজ যাতে স্বচ্ছভাবে বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা সুনিশ্চিত করাই এই নতুন যাত্রার মূল মন্ত্র।





