ফের বড়সড় নিরাপত্তা বিভ্রাটের মুখে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লিগামী স্বর্ণ শতাব্দী এক্সপ্রেসে সফরকালীন সময়ে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের পাথর বৃষ্টির কবলে পড়লেন সঙ্ঘ প্রধান। উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদ জেলার মাকখানপুর স্টেশন অতিক্রম করার সময় এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। তবে অলৌকিকভাবে সঙ্ঘ প্রধান সম্পূর্ণ অক্ষত ও সুরক্ষিত রয়েছেন বলে খবর।
রেল পুলিশ (GRP) সূত্রে জানা গেছে, মোহন ভাগবত ট্রেনের ই-১ কোচে সফর করছিলেন। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ ট্রেনটি মাকখানপুর এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই দুষ্কৃতীরা ট্রেন লক্ষ্য করে পাথরবৃষ্টি শুরু করে। পাথরের আঘাতে সঙ্ঘ প্রধানের কামরার জানলার বাইরের কাচ চুরমার হয়ে যায়। ঘটনার সময় ভাগ্যক্রমে তিনি আক্রান্ত জানলার ঠিক উল্টো দিকের আসনে বসেছিলেন, যার ফলে বড় কোনো বিপত্তি ঘটেনি। পাথর ছোড়ার ঘটনার পরই টুন্ডলা স্টেশনে ট্রেনটিকে জরুরি ভিত্তিতে থামানো হয়। রেল পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর আধিকারিকরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরই ট্রেনটি ফের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আগ্রা জোনের এডিজি এস কে ভগত এবং ডিআইজি শৈলেশ পাণ্ডের মতো শীর্ষ পুলিশ কর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফিরোজাবাদের সিনিয়র পুলিশ সুপার (SSP) আদিত্য লাঙ্গে জানিয়েছেন, এই হামলায় কেউ আহত হননি। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং হামলার কারণ উদঘাটনে জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার নেপথ্যে কোনো বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
যোগী আদিত্যনাথের শাসিত উত্তরপ্রদেশে আরএসএস প্রধানকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা এই প্রথম নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে লখনউ-দিল্লি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে সফরকালীন সময়েও একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছিলেন মোহন ভাগবত। সেইবারও বন্দে ভারতের জানলার কাচ ভেঙে গিয়েছিল। বারবার দেশের এত উচ্চপদস্থ একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চলন্ত ট্রেনে হামলার ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিরোধীদের মতে, উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভিআইপি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের গাফিলতি থেকেই এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। দুষ্কৃতীদের এই দুঃসাহসিক হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। আরএসএস প্রধানের মতো একজন ব্যক্তিত্বের সুরক্ষা নিয়ে একাধিকবার এ ধরনের ঘটনা ঘটায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সঙ্ঘ পরিবারে। প্রশাসন সূত্রে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, তদন্তে গাফিলতি হবে না এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে।





