পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে যেন প্রতিদিন নতুন নতুন খেলা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে পরিচিত ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা। শোনা যাচ্ছে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন তিনি।
ঋতব্রতর শিবিরে বিধায়কের সংখ্যা বাড়ছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার দাবি করেছেন, তাঁদের বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক সংখ্যা ৫৮ থেকে বেড়ে ৬৪-তে পৌঁছেছে। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এই সংখ্যা ৬৫ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ঋতব্রতর কথায়, “আমাদের শিবিরে ভাঙন নয়, বরং সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। কে কার সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠক করছেন তা নিয়ে মন্তব্য করব না, তবে আমরাই তৃণমূল।”
ফিরহাদ হাকিম কি তবে দল বদলাচ্ছেন? সবথেকে বড় জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ফিরহাদ হাকিম। গত সোমবারই তাঁকে বিধানসভায় সন্দীপন সাহার সঙ্গে যেতে দেখা গেছে এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে প্রায় ১ ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন তিনি। সূত্রের খবর, আজ বৃহস্পতিবার দুপুরেই বিধানসভায় গিয়ে বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের চিঠিতে সই করতে পারেন তিনি। এই পদক্ষেপটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সাংসদদের মধ্যেও বিদ্রোহের আঁচ কেবল বিধানসভাতেই নয়, লোকসভাতেও তৃণমূলের অবস্থা বেশ সংকটজনক। সায়নী ঘোষ, মালা রায়ের মতো হেভিওয়েট নেত্রীরা বিদ্রোহী সাংসদদের ২০ জনের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। বিদ্রোহী সাংসদদের এই ব্লক গঠনের ফলে লোকসভাতেও তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ আলগা হচ্ছে।
আইনি জটিলতা ও অস্বস্তি অন্যদিকে, বিদ্বেষমূলক ভাষণের অভিযোগে ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিজেপি কর্মী সঞ্জয় পয়রার দায়ের করা এই অভিযোগ নতুন করে অস্বস্তি বাড়িয়েছে ফিরহাদের। যদিও ফিরহাদ হাকিম নিজে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি, তবে তাঁর বিধানসভা অভিমুখে বর্তমান গতিবিধি যে তৃণমূলের অন্দরে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা স্পষ্ট।
তৃণমূলের এই ভাঙন কি আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করবে? আপনার কী মতামত? আমাদের জানান কমেন্ট বক্সে।





