আর বাধা নেই তিন সন্তানের! সরকারি চাকরির নিয়মে ঐতিহাসিক বদল আনল মোহন যাদব প্রশাসন

মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের সরকারি চাকরিতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের জন্য মঙ্গলবার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নির্দেশে এতদিন ধরে চলে আসা বিতর্কিত ‘দুই সন্তানের’ নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে, এখন থেকে দুটির বেশি সন্তান থাকলেও প্রার্থীরা সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে খুশির হাওয়া বইছে।

মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এই মর্মে জরুরি নির্দেশ দিয়েছেন যে, রাজ্যের সিভিল সার্ভিস বিধিমালা থেকে এই কঠোর নিয়মটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সরকারি পোর্টাল থেকে এই নিয়ম সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সরিয়ে ফেলতে হবে এবং আইনের সংশোধিত রূপটি দ্রুত প্রকাশ করতে হবে। এতদিন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে তিনি সরকারি চাকরির জন্য আবেদন জানাতে পারতেন না, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ছিল।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংয়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার এই নিয়মটি চালু করেছিল। সে সময় সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সাধারণ শর্তাবলীতে পরিবর্তন এনে ১৯৬১ সালের ‘মধ্যপ্রদেশ সিভিল সার্ভিস বিধিমালা’-য় এই নতুন শর্ত যোগ করা হয়। ২৬ জানুয়ারি ২০০১ থেকে এই আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে বহু যোগ্য প্রার্থী শুধু সন্তান সংখ্যার কারণে সরকারি চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।

শুধুমাত্র নতুন প্রার্থীদের ক্ষেত্রেই নয়, এই নিয়মটি তৎকালীন কর্মরত সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রেও বেশ কঠোর ছিল। সংশোধিত আচরণ বিধি অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলে তা ‘শৃঙ্খলাভঙ্গ’ হিসেবে গণ্য করা হতো এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান ছিল। মূলত সরকারি কর্মীদের পরিবার পরিকল্পনা মেনে চলতে বাধ্য করতেই এই কঠোর অবস্থান নিয়েছিল তৎকালীন সরকার।

তবে দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলি এই নিয়মটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছিল। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বিস্তারিত পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এই নিয়মটি আর প্রাসঙ্গিক নয়। এর ফলে সরকারি কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবনে এবং পরিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। সেই অসুবিধা দূর করতেই মুখ্যমন্ত্রী এই পুরনো নিয়মটিকে সম্পূর্ণরূপে বাতিল করার সাহসী পদক্ষেপ নিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মোহন যাদব সরকারের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রদেশের কর্মসংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আইনের এই সংশোধনের ফলে আগামী দিনে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও বেশি সংখ্যক তরুণ-তরুণী অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। রাজ্য সরকারের এই জনমুখী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। সরকারি পোর্টাল আপডেট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়ে যাবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।