পুর প্রশাসনিক বৈঠক না কি রাজনীতির নয়া সমীকরণ? বিবেকানন্দ পার্কে আজ হাই-ভোল্টেজ সভা

প্রাক-বর্ষার প্রস্তুতি বা নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির কথা বলে ডাক দেওয়া হলেও, এই বৈঠক ঘিরে চড়ছে রাজনীতির পারদ। আগামীকাল দক্ষিণ কলকাতার বিবেকানন্দ পার্কের কমিউনিটি হলে হতে চলেছে কলকাতা কর্পোরেশনের এক গুরুত্বপূর্ণ পুর প্রশাসনিক বৈঠক। আর সেই বৈঠককে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক কৌতূহল।

কেন এই বৈঠক এত গুরুত্বপূর্ণ? মুখ্যমন্ত্রী তথা ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম, প্রাক্তন মেয়র ও বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং রাসবিহারীর বিধায়ক ড. স্বপন দাসগুপ্ত—দক্ষিণ কলকাতার এই হেভিওয়েট নেতাদের এক মঞ্চে দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল। প্রশাসনিক আলোচনার মোড়কে আয়োজিত এই সভাটি আদতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের লড়াই কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।

প্রেক্ষাপট রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরবর্তী সময়ে কলকাতা কর্পোরেশনে প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। ইতিপূর্বে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা এবং প্রশাসক বসানোর পর থেকেই কলকাতা কর্পোরেশনের অন্দরে অস্বস্তি দানা বেঁধেছিল। আগের বৈঠকে উত্তর কলকাতার সাতটি বোরো এলাকার অধিকাংশ তৃণমূল কাউন্সিলর ও বিধায়কদের অনুপস্থিতি সেই অস্বস্তিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। এবার দক্ষিণ কলকাতার ছয়টি বোরো নিয়ে এই বৈঠকটি আয়োজন করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের নজর কলকাতা কর্পোরেশনের নিকাশি সংক্রান্ত এই প্রশাসনিক বৈঠকটি রাজনৈতিকভাবে কেন গুরুত্বপূর্ণ? পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে তৃণমূলের দুর্গ বলে পরিচিত দক্ষিণ কলকাতার কাউন্সিলর এবং বিধায়করা এই বৈঠকে কতটা সক্রিয় ভূমিকা নেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। একে তো শুভেন্দু অধিকারী-ফিরহাদ হাকিম-শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো ভিন্ন মেরুর নেতাদের উপস্থিতি, তার ওপর তৃণমূল শিবিরের একাংশের অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে আগামিকালের এই বৈঠক কলকাতার রাজনীতিতে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy