ফের বিতর্ক ও সমালোচনার কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকারের রান্নার গ্যাস বিষয়ক নীতি। প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার (PMUY) অধীনে ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের বার্ষিক সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। খাড়গের দাবি, এটি সাধারণ গরিব মানুষের ওপর সরাসরি একটি বড় আঘাত।
কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র? সাম্প্রতিক এক নির্দেশিকায় কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধাভোগীদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের বার্ষিক সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। সরকার মূলত ভর্তুকির বোঝা কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই সিদ্ধান্তের ফলে লক্ষ লক্ষ গরিব পরিবার, যারা আগে এই প্রকল্পের অধীনে সাশ্রয়ী মূল্যে সিলিন্ডার পেত, তারা এখন থেকে বাজারের পূর্ণমূল্যে গ্যাস কিনতে বাধ্য হবে, যার ফলে তাদের মাসিক পারিবারিক বাজেটে বড়সড় টান পড়বে।
মল্লিকার্জুন খাড়গের তীব্র আক্রমণ: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে লেখেন, “মোদী সরকার গরিবদের রক্ত চুষতে কোনো সুযোগই হাতছাড়া করছে না। একদিকে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া, তখন ভর্তুকি কমিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অমানবিক।”
খাড়গের অভিযোগ:
গরিব বিরোধী মানসিকতা: সরকার বড় শিল্পপতিদের ঋণ মকুব করতে পারে, কিন্তু গরিবের হেঁশেলের জন্য বরাদ্দ ভর্তুকি কমাতে তাদের দ্বিধা নেই।
সরাসরি প্রভাব: এই সিদ্ধান্তের ফলে লক্ষ লক্ষ মা-বোন আবারও কাঠ বা কয়লার মতো অস্বাস্থ্যকর জ্বালানি ব্যবহারে বাধ্য হবেন, যা প্রধানমন্ত্রী মোদীরই প্রবর্তিত ‘ধোঁয়ামুক্ত ভারত’ স্লোগানকে ব্যর্থ করে দেবে।
তীব্র নিন্দা: তিনি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আগের ভর্তুকি ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: বিরোধী দলগুলো এই ইস্যুটিকে সামনে রেখে আগামী দিনে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতার কারণেই ভর্তুকি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই সিদ্ধান্ত বিজেপির ভাবমূর্তিকে কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, সরকার জনস্বার্থের কথা ভেবে নিজের অবস্থানে অটল থাকে নাকি বিরোধীদের চাপে পড়ে ভর্তুকি সংক্রান্ত নীতিতে পুনর্বিবেচনা করে।





