মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির প্রভাব এবার সরাসরি পড়ল সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল বিপণন সংস্থাগুলির ব্যাপক লোকসানের আবহে, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার (PMUY) অধীনে ভর্তুকিপ্রাপ্ত এলপিজি সিলিন্ডারের সংখ্যা কমিয়ে মাত্র ৪-এ নামিয়ে আনল কেন্দ্রীয় সরকার।
কী পরিবর্তন হল? এতদিন পর্যন্ত উজ্জ্বলা প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা বছরে ৯টি রিফিলের ওপর ভর্তুকি পেতেন। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে শুধুমাত্র প্রথম ৪টি রিফিলের ক্ষেত্রেই প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা করে ডিবিটি (DBT) ভর্তুকি মিলবে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দাবি, অধিকাংশ উজ্জ্বলা পরিবার বছরে গড়ে চারটি সিলিন্ডার ব্যবহার করেন। তাই পরিবারের প্রকৃত ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভর্তুকির অঙ্ক ও প্রভাব বর্তমানে ১৪.২ কেজি গার্হস্থ্য গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ টাকা। ভর্তুকি পাওয়ার পর উজ্জ্বলা প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা ৬৪২ টাকায় সিলিন্ডার পাচ্ছেন। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা ভর্তুকি অব্যাহত থাকবে, যা সরাসরি গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তবে বাৎসরিক ভর্তুকির হিসেবে দেখা যাচ্ছে, আগে যেখানে গ্রাহকরা বছরে ৯টি সিলিন্ডারের জন্য মোট ২,৭০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি পেতেন, এখন সেখানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১,২০০ টাকায়। অর্থাৎ, বাৎসরিক হিসেবে গ্রাহকদের ১,৫০০ টাকা ভর্তুকি কম মিলবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত? আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস ও জ্বালানির দামবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থাগুলি প্রতিটি সিলিন্ডারে প্রায় ৭০০ টাকা লোকসান করছে। সরকারের দাবি, এই আর্থিক বোঝা কমাতেই ভর্তুকির কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। ২০১৬ সালে এই প্রকল্প চালুর পর থেকে ১০৫ মিলিয়নেরও বেশি সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং আজ পর্যন্ত সরকার ৫২,০০০ কোটি টাকা ভর্তুকি বাবদ ব্যয় করেছে।
বিশ্লেষকদের মত সরকারের এই পদক্ষেপে রান্নার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল দরিদ্র পরিবারগুলির ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। যদিও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, গ্যাসের দামবৃদ্ধি সামাল দিতে এবং দরিদ্র পরিবারগুলিকে সহায়তার পরিধি বজায় রাখতেই এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।





