ফিফার ফুটবল বিশ্বকাপের আবহে বিশ্বমঞ্চে অনন্য নজির গড়লেন বলিউড সেনসেশন নোরা ফতেহি। এবারের বিশ্বকাপে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে অবতীর্ণ হয়ে তিনি যেন এক নতুন ইতিহাস লিখলেন। ফিফার পক্ষ থেকে বিশ্বকাপের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে যে গানের অ্যালবাম প্রকাশ করা হয়েছে, তার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘স্যার স্যার’ (Light the Sky)-তে নৃত্যশিল্পী হিসেবে নজর কেড়েছেন নোরা। এই আন্তর্জাতিক প্রজেক্টটিতে তার সঙ্গে কাজ করেছেন নামী মিউজিক প্রোডিউসার সঞ্জয় এবং বিখ্যাত ফরাসি গায়ক ভেগেড্রিম। বিশ্বকাপের ঠিক প্রাক-মুহূর্তে মুক্তি পাওয়া এই মিউজিক ভিডিওটি ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছে।
ফিফার এই বিশেষ অ্যালবামে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্বনামধন্য শিল্পীদের দেখা গেছে। এমন একটি বৈশ্বিক মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হতে পারা যে কোনো শিল্পীর কাছেই পরম গর্বের বিষয়, আর নোরার ক্যারিয়ারে এটি নিঃসন্দেহে অন্যতম এক মাইলফলক।
নিজের এই বিশেষ অর্জন নিয়ে উচ্ছ্বসিত নোরা ফতেহি বলেন, “এই গানটি আমার কাছে অত্যন্ত আবেগঘন। ‘স্যার স্যার’-এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতিকে এক সুতোয় বাঁধার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। এমন একটি সুর ও উপস্থাপনা আমরা চেয়েছিলাম, যা একইসঙ্গে অভিনব এবং বিশ্বজনীন আবেদন রাখে। আমি আমার সমস্ত সত্তা ও পরিচয়কে এই গানে তুলে ধরতে চেয়েছি। আমার শিকড় মরক্কো এবং কানাডায়, কিন্তু আমার সাফল্যের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ভারত। এই দেশের মানুষের কাছ থেকে আমি যে অগাধ ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছি, তা আমাকে এই দীর্ঘ যাত্রায় এগিয়ে নিয়ে যেতে দারুণভাবে সাহায্য করেছে।”
নোরার মতে, এই প্রজেক্টটি আরও বেশি অর্থবহ হয়ে উঠেছে কারণ এর নেপথ্যে কাজ করেছেন অনেক দক্ষ ভারতীয় শিল্পী। তিনি জানান, এই গানের কোরিওগ্রাফি থেকে শুরু করে স্টাইলিং টিম—সবক্ষেত্রেই ছিল ভারতীয়দের ছোঁয়া। এই সৃজনশীল ভারতীয় দলটিই নোরার দর্শনকে বাস্তব রূপ দিতে মূল ভূমিকা পালন করেছে। নোরার কথায়, “বিশ্বকাপের মতো এত বিশাল ও মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চের জন্য এই গানটি তৈরি করতে পারা আমার কাছে প্রায় অবিশ্বাস্য ও স্বপ্নের মতো। মনে হচ্ছে যেন আমার জীবনের বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো। বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ ও সুর যখন এক জায়গায় মিলিত হয়, তখনই সৃষ্টি হয় এমন অসাধারণ কিছু।”
বিশ্বকাপের গানে ভারতীয় শিল্পীদের এই অংশগ্রহণ বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে ভারতের সাংস্কৃতিক উপস্থিতিকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। নোরার এই আন্তর্জাতিক সাফল্য শুধু বলিউড নয়, বরং গোটা দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির কাছেই এক গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।





