তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন, ‘তোষণই ধ্বংসের কারণ’ বিস্ফোরক বিজেপি সাংসদ গুলাম আলি খাটানা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান বিদ্রোহ এখন রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। নির্বাচনের পরবর্তী ধাক্কা এবং দলের অন্দরে সৃষ্ট তীব্র অসন্তোষ এখন আর গোপন নেই। একাধিক বিধায়ক ও শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী গোষ্ঠী বিধানসভায় ইতিমধ্যে বিরোধী দলের মর্যাদা লাভ করেছে, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ গুলাম আলি খাটানা।

বিজেপি সাংসদ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তৃণমূলের এই বিদ্রোহ প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। খাটানা বলেন, “তৃণমূলের এই ঘটনা আঞ্চলিক দলগুলোর কর্মসংস্কৃতির আসল চেহারা সামনে এনে দিয়েছে। কীভাবে তারা নিজেদের কর্মী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দমিয়ে রাখে, তা এখন স্পষ্ট। এখানে কথা বলার কোনো স্বাধীনতা নেই।” তাঁর দাবি, দলের হাইকমান্ডের একনায়কতন্ত্রই এই বিদ্রোহের মূল কারণ।

শুধু দলীয় বিদ্রোহ নয়, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন খাটানা। তাঁর মতে, গত ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনে পশ্চিমবঙ্গ এক গভীর সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। কাটমানি, দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেট রাজের কারণে রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গকে আইনশৃঙ্খলাহীনতার আখড়া এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে।

বিজেপি সাংসদের কথায়, তৃণমূলের মুসলিম তোষণই তাদের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিকে প্রশ্রয় দিয়ে রাজ্যকে প্রান্তিক করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।” শিল্প, বাণিজ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্যের যে বিপুল সম্ভাবনা ছিল, তৃণমূল তা নষ্ট করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বেকারত্ব ও যুবসমাজের হতাশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে মেধাবী প্রজন্ম আজ অন্ধকারে।

তবে এখন পরিস্থিতির বদল ঘটছে বলে দাবি করেছেন গুলাম আলি খাটানা। তিনি বলেন, “মানুষ এখন ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার থাকলে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয়। আমরা পশ্চিমবঙ্গকে আবার শিল্পের হাব হিসেবে গড়ে তুলব।” তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে এবং ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠবে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, পরিবর্তনের হাওয়া বইছে বাংলায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy