বঙ্গ রাজনীতির করিডোরে হঠাৎই এক নতুন উত্তাপ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের অন্দরে যখন নানামুখী জল্পনা চলছে, ঠিক সেই সময়ই দিল্লির বুকে তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হঠাৎ উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এই সাক্ষাৎ কি নিছকই সৌজন্য বিনিময়, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো বৃহত্তর ‘রাজনৈতিক চিত্রনাট্য’? প্রশ্ন উঠছে সব মহলেই।
দিল্লির অন্দরে কী হচ্ছে? সূত্রের খবর, দিল্লিতে সংসদের অধিবেশন চলাকালীনই শতাব্দী রায়ের দিল্লির ঠিকানায় শুভেন্দুর এই আচমকা আগমন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও দুই নেতার কেউই এই সাক্ষাৎ নিয়ে সরাসরি কোনো বিস্ফোরক মন্তব্য করেননি, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের অন্দরের সমীকরণ যে বদলে যেতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
কেন এই সাক্ষাৎ? অনেকে একে ব্যক্তিগত সৌজন্য বলে মানতে চাইলেও, রাজনীতির কারবারিরা এর মধ্যে আগামী দিনের ‘অপারেশন’-এর গন্ধ পাচ্ছেন। বিশেষ করে যখন রাজ্যের শাসক দলের অন্দরে একাধিক বিষয় নিয়ে অসন্তোষের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
মমতার কপালে চিন্তার ভাঁজ? তৃণমূল নেতৃত্বের ওপর স্থানীয় পর্যায়ে যে ক্ষোভ বা দ্বন্দ্বের খবর মাঝেমধ্যেই সামনে আসে, তার প্রভাবেই কি শতাব্দী রায়ের মতো দাপুটে নেত্রী নতুন কোনো পথ খুঁজছেন? শুভেন্দুর সঙ্গে এই বৈঠক সেই জল্পনাকেই অনেকটা উসকে দিল।
শুভেন্দুর রণকৌশল: লোকসভা ভোটের পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলনেতার এই ধরণের পদক্ষেপ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে তৃণমূলের ‘অসন্তুষ্ট’ নেতাদের সেতুবন্ধনের কাজ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
দিল্লির এই চা-চক্রে ঠিক কী নিয়ে আলোচনা হলো, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক কেবল ছবি নয়, বরং বঙ্গ রাজনীতির আগামী দিনের ‘বড় খেলার’ একটি ট্রেলার মাত্র। মমতার ‘সামনেই’ কি তবে বড় কোনো বিপর্যয়ের ইঙ্গিত? সময়ের অপেক্ষা।





