রাজ্যের বহুল আলোচিত রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছিল বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যর। দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (ED) টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি জামিন পেলেও, মামলাটি নিয়ে জল্পনা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইদানীং নতুন করে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ ওঠার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইডি আধিকারিকরা বনগাঁয় শঙ্কর আঢ্যর বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েছিলেন। সেই সময় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল এবং অবশেষে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে আদালত থেকে তিনি জামিন পেলেও, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত জারি রেখেছে।
নতুন অভিযোগের জল্পনা: সাম্প্রতিক সময়ে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, কেবল রেশন বন্টন নয়, বরং প্রাক্তন পুরপ্রধান থাকাকালীন অন্যান্য আরও কিছু আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক দুর্নীতির বিষয়ে নতুন করে নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চার্জশিট বা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বড় কোনো ঘোষণা আসেনি, তবুও বিরোধী রাজনৈতিক শিবির এবং স্থানীয় স্তরে তাঁকে নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আইনি লড়াইয়ের পরিস্থিতি: উল্লেখ্য যে, এই মামলাটি অত্যন্ত জটিল। যদিও বিশেষ ইডি আদালত গত বছরের আগস্ট মাসে শঙ্কর আঢ্যর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছিল, কিন্তু একই সঙ্গে কিছু শর্তও আরোপ করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি নতুন কোনো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর আইনি লড়াই পুনরায় কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া: বনগাঁর সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন উন্নয়নের নামে দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে, অন্যদিকে শঙ্কর আঢ্যর সমর্থকদের একাংশ দাবি করছেন যে, সম্পূর্ণ বিষয়টিই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।





