রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের আবহে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সুর চড়ালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান এবং কতজনকে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, সেই সংক্রান্ত এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান জনসমক্ষে আনলেন তিনি। পাশাপাশি, হোল্ডিং সেন্টারে ঠিক কতজন আটক রয়েছেন, তারও বিস্তারিত খতিয়ান দিলেন শুভেন্দু।
সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্যের নিরাপত্তা এবং অখণ্ডতা বজায় রাখতে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক অতীতে বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে বহু অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশকে আইন মেনে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
শুভেন্দুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত হোল্ডিং সেন্টারে বর্তমানে কয়েক শ’ অনুপ্রবেশকারীকে আটক করে রাখা হয়েছে। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই অনুপ্রবেশ ছাড়াও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। বিরোধী দলনেতার স্পষ্ট বক্তব্য, “যাঁরা অবৈধভাবে এদেশে ঢুকে পড়েছেন, তাঁদের রেহাই দেওয়ার কোনো জায়গা নেই। নিয়ম মেনেই তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ চলছে।”
তবে শুভেন্দুর এই পরিসংখ্যান ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিরোধী দলনেতা এই ইস্যুকে সামনে রেখে রাজ্যে বিভাজনের রাজনীতি করছেন এবং অহেতুক আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬-এর এই সময়ে দাঁড়িয়ে অনুপ্রবেশ ইস্যু ফের একবার রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয় কি না এবং এর জেরে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে কোনো প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পায় কি না।





