দিল্লির যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janata Party)-র প্রথম দফার আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হলো নতুন রাজনৈতিক উত্তাপ। নিয়োগ দুর্নীতি এবং কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগুলিতে অনিয়মের অভিযোগে সরব হয়ে এই নতুন সংগঠন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলেছে। এই আন্দোলনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন।
রাঁচিতে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় নীতিন নবীন সরাসরি কোনো দলের নাম না নিলেও, তাঁর নিশানায় যে ককরোচ জনতা পার্টিই ছিল, তা রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট। নীতিন বলেন, “দেশের যুবসমাজকে নেতিবাচক রাজনীতির পথে চালিত করার চেষ্টা চলছে। ভারতের তরুণ প্রজন্ম দেশ গঠন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার দিকে মনোযোগী। কিছু মানুষ দেশের যুবকদের সরকারবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা করছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভারতের যুবসমাজ ইতিবাচক রাজনীতিতেই বিশ্বাসী এবং তারা কারও হাতের পুতুল হয়ে চলবে না।” বিদেশে বসে কেউ কেউ দেশের যুবসমাজকে বিপথগামী করার চেষ্টা করছেন বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।
উল্লেখ্য, শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে এক নজিরবিহীন বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নিট (NEET), সিবিএসই, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা এবং কর্মী নির্বাচন কমিশনের পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে উত্তাল হয়ে ওঠে যন্তরমন্তর। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আমেরিকা থেকে সরাসরি এই আন্দোলনে যোগ দেন। এদিন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককেও মঞ্চে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। আন্দোলনকারীদের পরনে ছিল ককরোচের মুখোশ, যা ছিল মূলত দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ। সংগঠনের মুখপাত্ররা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হলে তারা দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন।
এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে আম আদমি পার্টি, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস, শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী) এবং বামপন্থী দলগুলো। অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব এবং মহুয়া মৈত্ররা যুবসমাজের ক্ষোভকে গুরুত্ব দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তবে কংগ্রেসের অন্দরে এই আন্দোলন নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। দলের একটি অংশ যুব আন্দোলনের পাশে দাঁড়ালেও, অন্য অংশ একে ‘প্রতীকী’ ও ‘ব্যর্থ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত যন্তরমন্তরের এই বিক্ষোভের আঁচ জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে নতুন করে মেরুকরণ তৈরি করল।





