উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি যেন আবারও উত্তাল। জেলের শিকারে থাকা তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের প্রভাববলয় হিসেবে পরিচিত এলাকায় এবার এসটিএফ (STF) বা স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের বিশাল তল্লাশি অভিযান চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার এসটিএফের বিশেষ অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫৬ রাউন্ড কার্তুজ। শুধু বাড়ি নয়, বাড়ির পাশের পুকুরের জলের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এই বিপুল মারণাস্ত্র।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, ধৃত তিন সহযোগীকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। সরবেড়িয়া বাজার, আকুঞ্জিপাড়া, কুমরোখালি এবং মণিপুর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে এসটিএফের আধিকারিকরা এই অস্ত্রভাণ্ডার খুঁজে বের করেন। মূলত শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত রবিন দাস এবং গোপাল দাসের বাড়িতেই চলে এই অভিযান। যদিও রবিন দাস বর্তমানে পলাতক, তবে গোপাল দাসসহ মোট ৬ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
বারাসাত রেঞ্জের ডিআইজি অমিত জাভালগি এবং এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মার নেতৃত্বে পুলিশ এই অভিযানে নামে। অভিযুক্তরা অস্ত্রগুলো এমনভাবে লুকিয়ে রেখেছিল যে তা সহজে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব ছিল। পুকুরের তলদেশ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়ার ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, একসময়ে এই অস্ত্রগুলো এলাকায় সন্ত্রাস কায়েম করতে এবং বিরোধীদের ওপর হামলার জন্য মজুত করা হয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, “পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বছরের পর বছর ধরে এভাবে অবৈধ অস্ত্রের মজুত গড়ে তোলা হয়েছিল। যারা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালাত, তাদের এই অন্ধকার দিন শেষ হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর। প্রতিটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।
অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলকে বিঁধেছেন। স্থানীয় মানুষজন দীর্ঘদিন ধরে এই প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন এসটিএফের এই বড় সাফল্যের পর নতুন করে তদন্তের গতি বেড়েছে। ধৃতদের জেরা করে আরও কোন কোন জায়গায় অস্ত্র লুকানো আছে, তার খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। রাজ্যজুড়ে অপরাধমূলক কাজকর্ম এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাস নির্মূল করতে এই অভিযানকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছে প্রশাসন।





