OMG! চলন্ত ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন কোচ! অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ১২০০ যাত্রী

বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ১২০০ যাত্রী। শনিবার সকালে লুধিয়ানা রেলস্টেশনে নিউদিল্লি-শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী কাটরা স্পেশাল ট্রেনের একটি কোচ হঠাৎই মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কামরাটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় বিকট শব্দ হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে বিস্ফোরণের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঠিক কী ঘটেছিল? শুক্রবার মধ্যরাত আড়াইটে নাগাদ দিল্লি থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি শনিবার সকাল ৮টা ৪৭ মিনিট নাগাদ লুধিয়ানা স্টেশনে পৌঁছয়। স্টেশনে নির্ধারিত বিরতির পর ট্রেনটি রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে বিপত্তি। ট্রেনের একটি স্লিপার কোচ হঠাৎ বিকট শব্দে মূল ট্রেন থেকে আলাদা হয়ে যায়। ট্রেনের গতি কম থাকায় বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি ঘটেনি, তবে ঘটনার আকস্মিকতায় স্টেশনে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। প্রাণ বাঁচাতে যাত্রীরা দ্রুত কামরা থেকে নেমে পড়েন।

কী বলছে রেল ও পুলিশ প্রশাসন? ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছান ঊর্ধ্বতন রেল কর্মকর্তা ও স্থানীয় পুলিশ। লুধিয়ানার ADCP সমীর ভার্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি। এটি নিছক একটি যান্ত্রিক দুর্ঘটনা। ট্রেনের দুটি কোচকে সংযোগকারী ‘কাপলার’ (Coupler) ভেঙে যাওয়ার ফলেই এই বিচ্ছিন্নকরণ ঘটে।

ফিরোজপুর ডিভিশনের DRM সঞ্জীব কুমার জানান, সাধারণত একটি কোচের আয়ু ২৫ বছর ধরা হয়, কিন্তু দুর্ঘটনাগ্রস্ত কোচটির বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ধাতব অংশ ভেঙে যাওয়ার সময় বিকট শব্দ হওয়া স্বাভাবিক। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে রেলের তরফে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ: তবে যাত্রীদের একটি বড় অংশের দাবি, দিল্লি থেকেই কোচটির অবস্থা দেখে তাদের সন্দেহ হয়েছিল। কোচটি অনেক পুরনো মনে হচ্ছিল এবং তাতে যান্ত্রিক গোলযোগ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন যাত্রীরা। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো।

রেলের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্ত রিপোর্ট আসার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যাত্রীদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy