ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় বড়সড় সাফল্য পেল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। দীর্ঘ কয়েকদিন ফেরার থাকার পর, বাইপাস সংলগ্ন এলাকা থেকে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করলেন তদন্তকারীরা। এই মামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে শওকতের নাম উঠে আসায় এই গ্রেফতারি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলেছে।
কীভাবে ফাঁসলেন শওকত? তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভাঙড়ে বোমা তৈরির সময় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক বোমা প্রস্তুতকারীর, গুরুতর জখম হন আরও কয়েকজন। তদন্তের গভীরে গিয়ে এনআইএ নিশ্চিত হয় যে, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন শওকত মোল্লা।
এনআইএ-র চাঞ্চল্যকর দাবি তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী:
শওকত মোল্লাই অভিযুক্তদের বোমা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বিস্ফোরণের পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ লোপাট করার জন্য তিনি সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন তার সহযোগীদের।
এর আগে এই মামলায় ধৃত এক অভিযুক্তের বয়ান ও তথ্যের ভিত্তিতে শওকতের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়। ওই অভিযুক্ত বিস্ফোরণের পর মৃত ও আহতদের নিজের স্করপিও গাড়িতে করে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ।
ম্যারাথন তল্লাশি ও গ্রেফতারি প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবারই এনআইএ শওকত মোল্লার বাড়ি, দলীয় কার্যালয় সহ মোট ৮টি জায়গায় একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি চালায়। সেই সময় তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকও করা হয়। এরপরই শওকতকে বাইপাস এলাকা থেকে গ্রেফতার করে সংস্থাটি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে রাজ্য পুলিশের থেকে এই মামলার তদন্তভার নেওয়ার পর থেকেই এনআইএ-র নজরে ছিলেন এই প্রভাবশালী নেতা।
এরপর কী? এনআইএ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই বিস্ফোরণের ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনো রাজনৈতিক চক্রান্ত বা বড়সড় কোনো চক্র সক্রিয় কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। প্রাক্তন বিধায়কের এই গ্রেফতারির ফলে আগামী দিনে ভাঙড়ের রাজনীতিতে আরও বড় কোনো মোড় আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





