গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে রসালো আম আর শীতল দই—এই দুইয়ের বিকল্প যেন কিছুই নেই। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, আম ও দই কি একসঙ্গে খাওয়া নিরাপদ? পুষ্টিবিদদের মতে, এই দুই উপাদানের সংমিশ্রণ কেবল স্বাদে অতুলনীয়ই নয়, বরং শরীর ঠান্ডা রাখতেও কার্যকরী।
ভারতীয় রন্ধনশৈলীতে আম ও দইয়ের সংমিশ্রণ নতুন কিছু নয়। বহু শতাব্দী ধরে আমাদের খাদ্যতালিকায় থাকা ‘আমরস’, ‘ম্যাঙ্গো লস্যি’ বা আমের মিষ্টির জনপ্রিয়তা এর প্রমাণ। পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, আম ভিটামিন এ, সি, ফাইবার ও প্রাকৃতিক শর্করার আধার, আর দই প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও প্রোবায়োটিকের চমৎকার উৎস। তাই পরিমিত পরিমাণে এই দুটি খাবার একসঙ্গে খেলে শরীরের পুষ্টির চাহিদা মেটে এবং পরিপাকতন্ত্রও সচল থাকে।
তবে সবার ক্ষেত্রে কি এটি নিরাপদ? সাধারণত সুস্থ মানুষের জন্য আম ও দইয়ের মিশ্রণ সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিন্তু যাদের পরিপাকতন্ত্র কিছুটা দুর্বল বা যাদের প্রায়ই অ্যাসিডিটি, গ্যাস কিংবা পেট ফাঁপার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অতিরিক্ত মিষ্টি আমের সঙ্গে প্রচুর মিষ্টি দই যোগ করলে শরীরে ক্যালোরি ও শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অনেকেই আম-দই নিয়ে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের বিভিন্ন মত নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। যদিও আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ মহলে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে, তবুও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের কোনো গবেষণায় এখনো এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি যে, পরিমিত পরিমাণে আম ও দই একসঙ্গে খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
পরিশেষে বলা যায়, শরীরকে সতেজ ও সুস্থ রাখতে গ্রীষ্মকালে আম ও দইয়ের যুগলবন্দি একটি আদর্শ খাবার। তাই কোনো ভীতি ছাড়াই আপনি এই গ্রীষ্মে নিশ্চিন্তে উপভোগ করতে পারেন এক গ্লাস ঠান্ডা ম্যাঙ্গো লস্যি বা দই-আমের বাটি। তবে খাবারের পরিমাণ যেন থাকে আপনার শরীরের সক্ষমতার ভেতরেই।





