নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আইপিএল ফাইনালের সেই দৃশ্য আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে টাটকা। সাই সুদর্শনের আউট নিয়ে আম্পায়ারের সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে সৃষ্টি হয়েছিল তীব্র নাটকের। মাঠের আম্পায়ার আউট দিলেও, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে রিভিউয়ের মাধ্যমে সুদর্শন সেবার জীবন ফিরে পেয়েছিলেন। সেই বিতর্কিত আউট থেকে বেঁচে ফেরা তরুণ সাই সুদর্শন আজ গম্ভীরের ‘মাস্টারস্ট্রোক’-এ পরিণত হলেন। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্ট ম্যাচ শুরুর আগে ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিন নম্বর ব্যাটিং পজিশন সামলাবেন এই বাঁ-হাতি তরুণ তুর্কী।
টেস্ট ক্রিকেটে তিন নম্বর পজিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল। চাপের মুখে দলের হাল ধরার মতো অকুতোভয় ব্যাটারকে খুঁজে বের করা গম্ভীরের অন্যতম চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই চ্যালেঞ্জের জন্য তিনি বেছে নিলেন ২৪ বছর বয়সী সুদর্শনকে। গম্ভীরের এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি ম্যাচের রণকৌশল নয়, বরং ভবিষ্যতের শক্তিশালী ভারতীয় দল গড়ার ইঙ্গিত। গম্ভীরের কথায়, “সাইকে এতদিন পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। ইংল্যান্ডের মাটিতে অভিষেক হয়েছিল, কিন্তু সেখানকার প্রতিকূল পরিস্থিতি ওর পারফরম্যান্সে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে আইপিএলের মঞ্চে ও যেভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছে, তাতে ও আরও বেশি সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।”
২০২৫ সালের জুন মাসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয় সাই সুদর্শনের। এখন পর্যন্ত তিনি ভারতের জার্সি গায়ে ৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। ১১টি ইনিংসে ব্যাট করে তাঁর সংগ্রহ ৩০২ রান, যার মধ্যে রয়েছে ২টি হাফ সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ৮৭। পরিসংখ্যানের বিচারে তিনি হয়তো এখনও নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি, কিন্তু গম্ভীরের ওপরের ওপর আস্থা সাইয়ের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গম্ভীরের এই সিদ্ধান্তে ভারতীয় ক্রিকেটমহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনেকে মনে করছেন, রাহুল দ্রাবিড়-পরবর্তী যুগে গম্ভীর নতুন ক্রিকেটারদের ওপর বাজি ধরতে পিছপা হচ্ছেন না। সাই সুদর্শনের টেকনিক এবং চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় খেলার ক্ষমতা তাঁকে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ের জন্য আদর্শ করে তুলেছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, গম্ভীরের এই আস্থার মর্যাদা সুদর্শন মাঠে কতটা রাখতে পারেন। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আজকের ম্যাচে তিন নম্বরে সুদর্শনের পারফরম্যান্সই ঠিক করে দেবে ভবিষ্যতের ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর স্থায়ী জায়গা। আইপিএলের সেই বিতর্কিত মুহূর্ত থেকে আজকের গম্ভীরের ভরসা—সুদর্শনের এই যাত্রাপথ কি তবে নতুন কোনো ইতিহাসের সূচনা করতে চলেছে? ক্রিকেট দুনিয়া এখন তাকিয়ে সেই তরুণ তুর্কীর ব্যাটের দিকে।





