সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চ থেকে ফের একবার ভারতের ভূয়সী প্রশংসা করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কঠোর ও স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতের মতো একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রকে কোনো বহিঃশক্তি নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে দমাতে পারবে না। নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ভারত যেভাবে নিজের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বৈদেশিক নীতি নির্ধারণ করছে, তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
পুতিনের মতে, ভারত এমন একটি দেশ যা সর্বদা নিজস্ব বিচারবুদ্ধি ও জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে অভ্যস্ত। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, কোনো দেশের পক্ষেই ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো সম্ভব নয় এবং এই ধরণের কোনো কৌশল ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারবে না। বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে ভারতের এই স্বাধীন সত্তার বিষয়টি মস্কোর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে পুতিন একে কেবল পণ্য কেনাবেচার বাণিজ্যিক সম্পর্ক হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁর কথায়, এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস এবং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন। বিশেষ করে ব্রহ্মস মিসাইল প্রকল্পকে তিনি দুই দেশের সফল সহযোগিতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। রুশ এবং ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই মিসাইল প্রযুক্তি যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রসঙ্গে পুতিন রাশিয়ার অত্যাধুনিক ‘এসইউ-৫৭’ যুদ্ধবিমানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। অতীতে এই যুদ্ধবিমান যৌথভাবে তৈরির প্রস্তাব রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে রাশিয়া নিজস্ব প্রযুক্তিতে এটি তৈরি সম্পন্ন করেছে, তবে এখন তারা ভারতকে এই আধুনিক বিমান দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। পুতিনের দাবি অনুযায়ী, এসইউ-৫৭ বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও শক্তিশালী যুদ্ধবিমান, যা নানা ধরনের জটিল সামরিক অভিযানে অত্যন্ত কার্যকরী।
পুতিন স্মরণ করিয়ে দেন, একটা সময় ছিল যখন নরেন্দ্র মোদীর ওপর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আজ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। ভারত তার জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী যে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে পারে এবং সেই সিদ্ধান্তের ওপর অন্য কোনো দেশ কোনোভাবেই প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করেছেন, রাশিয়া তার মিত্র দেশগুলোর প্রতি সর্বদা বিশ্বস্ত থাকে এবং ভারতের মতো নির্ভরযোগ্য বন্ধুদেশের সঙ্গেই মস্কোর দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং তার বিদেশ নীতির স্বাধীনতার প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে আরও জোরালো করে তুলেছে। ভারত যে কোনো শিবিরের চাপে না থেকে নিজের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে এগিয়ে চলেছে, রাশিয়ার এই সমর্থন তারই প্রতিফলন।





