পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্দরমহলে বড়সড় ভূমিকম্প! তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী দল ছেড়ে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরির পর মমতা ব্যানার্জীর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিধানসভায় নিজেকে বিরোধী দলনেতা (এলওপি) হিসেবে স্বীকৃতিও আদায় করে নিয়েছেন তিনি। ঋতব্রতর এই পদক্ষেপ তৃণমূল কংগ্রেসের ভিতকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখানেই থামছেন না তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমানে আরও অনেক তৃণমূল বিধায়ক তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং খুব শীঘ্রই তাঁদের নাম প্রকাশ্যে আনবেন। ঋতব্রতর কথায়, “আমাদের বিধায়কদের সংখ্যা কমবে না, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বেড়েই চলবে।” যদিও সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অন্দরে চাপা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনা। ৮০ জন বিধায়কের দলের বড় অংশকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঋতব্রত মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বের সামনে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। মমতা বিরোধী এই নতুন শক্তি তৃণমূলকে কতটা পর্যুদস্ত করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য বিধানসভায় এই ভাঙন আসন্ন দিনগুলোতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। দল রক্ষা করার শপথ নিয়ে ঋতব্রত ব্যানার্জী এখন মমতা ব্যানার্জীর একসময়ের বিশ্বস্ত সৈনিক থেকে হয়ে উঠেছেন তাঁর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।





