সংরক্ষিত দ্বীপ বেচে দেওয়ার অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামলেন হাজারো মানুষ

আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানা এখন উত্তপ্ত। টানা চার দিন ধরে রাজপথে আছড়ে পড়ছে হাজারো মানুষের ক্ষোভ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পের নাম জড়িয়ে থাকা প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল পর্যটন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এই জনরোষ। বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ, আলবেনিয়ার দক্ষিণ উপকূলের সুরক্ষিত ‘ভ্লোশা-নার্তা’ (Vjosë-Nartë) অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে এখানে বিলাসবহুল হোটেল ও পর্যটন হাব গড়ে তোলা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে কাঁপছে আকাশ-বাতাস—‘প্রধানমন্ত্রী এডি রামা, পদত্যাগ করুন।’

প্রকল্পটির বিরুদ্ধে ক্ষোভের পারদ তুঙ্গে উঠেছে যখন কিছু পোস্টারে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী এডি রামা ইভাঙ্কা ট্রাম্পের হাতে দেশের চাবি তুলে দিচ্ছেন। দুই বছর আগে অনুমোদিত এই বিতর্কিত প্রকল্পে সজান (Sazan) দ্বীপকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কমিউনিস্ট শাসনামলে এই দ্বীপটি ছিল একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি, যা বর্তমানে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা। ইতিমধ্যে সৈকতে বুলডোজার নামিয়ে নির্মাণ কাজের প্রস্তুতির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এছাড়া, সংরক্ষিত এলাকায় এক ব্যক্তিকে নিরাপত্তা রক্ষীদের দ্বারা মারধরের ঘটনা বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে।

বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিতর্কিত ‘কৌশলগত বিনিয়োগকারী আইন’ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বড় বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোকে দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়ার নামে এই আইনটি দেশের পরিবেশ ধ্বংসের লাইসেন্স দিচ্ছে। একই সঙ্গে, ‘সংরক্ষিত এলাকা আইন’-এর সেই সংশোধনীগুলো বাতিলের দাবিও উঠেছে, যা সুরক্ষিত বনাঞ্চল বা সৈকতে হোটেল নির্মাণের অনুমতি দেয়। আলবেনিয়ার প্রায় ২২ শতাংশ ভূমি বর্তমানে সংরক্ষিত এলাকার আওতাধীন। মানবাধিকার কর্মী লুসিয়ানা কোকাজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই, কিন্তু পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো স্বচ্ছতাহীন উন্নয়ন আমরা মেনে নেব না।”

পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, আলবেনিয়ার দুর্নীতি ও সংগঠিত অপরাধ দমন দপ্তর শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। যদিও তদন্তের পরিধি বা তথ্য সম্পর্কে এখনো তেমন কিছু প্রকাশ করা হয়নি। আলবেনিয়ার সাধারণ মানুষের দাবি, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ কোনো রাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি হতে পারে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রকৃতি রক্ষা করা এখন তাদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার পালা, সরকারের ওপর ক্রমবর্ধমান এই চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প পরিবারের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয় কি না, নাকি জনমতের কাছে নতি স্বীকার করে আলবেনিয়া সরকার নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসে।