মমতার তিন দশকের ছায়াসঙ্গী এবার ‘বিদ্রোহী’! তৃণমূল ভবনের জমি নিয়েও বিস্ফোরক জাভেদ খান

১৯৯৫ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যাঁর ছিল অবাধ বিচরণ, সেই জাভেদ খানের দলত্যাগের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে প্রবল শোরগোল পড়েছে। ভবানীপুরের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই নেতাকে সোমবার দেখা যায় তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে। শুক্রবার বিদ্রোহী বিধায়কদের বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি কার্যত নিশ্চিত করে দিল যে, তৃণমূলের ভাঙন এখন আর গুঞ্জন নয়, বরং এক কঠিন বাস্তবতা।

নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এদিন জাভেদ খান সরাসরি আক্রমণ করেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে। আমার যা সম্পত্তি, তা পৈতৃক। সবকিছু জাভেদ খানের নয়।’’ তাঁর এই মন্তব্যের পরই উঠে আসে তৃণমূল ভবনের জমির প্রসঙ্গ। চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জাভেদ খান জানান, ‘‘তৃণমূল ভবনের জায়গাটি আমাদের পরিবারের। আমরাই তা দান করেছিলাম। তবে আমরা তা ফেরত নেব না, আমি প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি করি না।’’

জাভেদ খানের এই রাজনৈতিক প্রস্থান শুধুমাত্র একটি বিচ্ছেদ নয়, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মহলের ভাঙন। ১৯৯৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর, ২০০৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বালিগঞ্জ ও কসবা কেন্দ্রের বিধায়ক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের ক্যাবিনেট মন্ত্রী— দীর্ঘ এই যাত্রাপথে তিনি ছিলেন দলনেত্রীর অন্যতম ভরসার স্তম্ভ। বিরোধী দলনেতা হিসেবে কলকাতা পুরসভায় তাঁর ভূমিকাও ছিল উল্লেখযোগ্য।

তবে এতদিন যে অনুগত জাভেদ খানকে সকলে দেখেছেন, তিনি এখন নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি হয়ে উঠেছেন। ক্ষুব্ধ জাভেদ খানের অভিযোগ, ‘‘দলের মধ্যে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। আমাদের কথা কেউ শুনত না। শীর্ষ নেতৃত্বের কারণেই আজ এই পরিস্থিতি। আমরা যারা আছি, তাদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, কোনো অ্যাকশন নেওয়া হয়নি।’’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাভেদ খানের মতো পোড় খাওয়া নেতার এই প্রস্থান তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা। ঋতব্রতদের মতো বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর যোগ দেওয়া প্রমাণ করে যে, দলের অন্দরের ক্ষোভ এখন বাঁধ ভাঙা। একদিকে অভিষেকের মোকাবিলা করার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে দলের একের পর এক পুরনো নেতাদের বিদায়— সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরে এখন অস্থিরতার কালো মেঘ। সাংসদ থেকে শুরু করে বিধায়ক, একের পর এক নেতার দলবদলের ইঙ্গিত মিলছে। এখন দেখার, এই বিদ্রোহী হাওয়া আরও কতটা পথ পাড়ি দেয় এবং মমতার বিশ্বস্তরা একে একে দল ছাড়লে দলের ভিত কতটা নড়বড়ে হয়ে ওঠে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy