সরকারিভাবে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের আগামী মরশুমের ফুটবল ক্যালেন্ডার প্রকাশিত হওয়ার পরেও ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অযথা গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চৌবে। বৃহস্পতিবার ‘ময়দান সাথী’-র এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ভারতীয় ফুটবলের অগ্রগতি নিয়ে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই। গত মরশুমে আই-লিগ আয়োজন নিয়ে আইনি লড়াইয়ের সময়ও তিনি যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন, সেই আত্মবিশ্বাসই ফের ফুটে উঠল তাঁর কণ্ঠে।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আইএসএল শুরু করার প্রস্তাব রয়েছে ফেডারেশনের ক্যালেন্ডারে। এর পাশাপাশি ক্লাবজোটের পক্ষ থেকে দু’বছরের জন্য আইএসএল আয়োজনের যে প্রস্তাব এসেছে এবং প্রতি বছর ১৫ কোটি টাকা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে ফেডারেশন। তবে খবর অনুযায়ী, ফেডারেশন এই লিগ পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত ১৫ কোটি টাকার দাবি জানিয়েছে। এই আর্থিক সমীকরণ মেলাতে এবং অচলাবস্থা কাটাতে আসরে নেমেছেন প্রাক্তন ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট প্রফুল প্যাটেল। ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম সত্যনারায়ণের সাথে আলোচনার মাধ্যমে খুব শীঘ্রই একটি রফাসূত্র বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, ‘ময়দান সাথী’-র এই অনুষ্ঠানটি ময়দানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের এক বড় মঞ্চ হয়ে উঠল। আশুতোষ ক্লাব তাঁবুতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি নেতাদের একমঞ্চে দেখা যাওয়া ছিল অন্যতম বড় চমক। মদন মিত্র, বিশ্বরূপ দে, তাপস রায় এবং অশোক দিন্দার মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি তিন প্রধানের কর্তারা ও আইএফএ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ করে প্রাক্তন ফুটবলার প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, অলোক মুখোপাধ্যায় ও মানস ভট্টাচার্যদের মতো ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি এবং তাদের কণ্ঠে ‘রাজনীতিমুক্ত ময়দান’-এর দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। ক্লাব কর্তারাও একযোগে জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলের রাজনৈতিক চাপ এখন ইতিহাস হওয়া প্রয়োজন। অনুষ্ঠানমঞ্চে খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল কাপ জয়ী বাংলা দল, এভারেস্ট জয়ী দেবাশিস বিশ্বাস, দেবদাস নন্দী এবং সাঁতারু সায়নী দাসকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতি এবং কল্যাণ চৌবের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নতুন এক মেলবন্ধনের ইঙ্গিত দিল। সব মিলিয়ে, পুরনো সব তিক্ততা ভুলে নতুন করে ময়দানকে ঢেলে সাজানোর যে বার্তা এই অনুষ্ঠান থেকে এল, তা রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের ময়দানি প্রবেশের কৌশলী পথ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।





