আজকের ব্যস্ত জীবনে ঘরই হলো একমাত্র জায়গা যেখানে মানুষ মানসিক শান্তি খুঁজে পায়। কিন্তু জানালার বাইরে যানবাহনের হর্ন, নির্মাণকাজের শব্দ কিংবা প্রতিবেশীদের কোলাহল যদি অনবরত আপনার ঘরে আছড়ে পড়ে, তবে বিশ্রাম নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত কোলাহল কেবল ঘুমের ব্যাঘাতই ঘটায় না, বরং মানসিক চাপ ও খিটখিটে মেজাজের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আপনিও কি এই সমস্যায় অতিষ্ঠ? ঘরকে শান্ত ও কোলাহলমুক্ত আশ্রয়ে পরিণত করতে খুব বেশি খরচ করার প্রয়োজন নেই। সহজ কিছু কৌশলেই আপনি বাইরের শব্দ রোধ করতে পারেন।
প্রথমত, ভারী ও মোটা পর্দা ব্যবহার করুন। বাইরের অধিকাংশ শব্দ জানালার মাধ্যমেই ঘরে ঢোকে। ভেলভেট, ব্রোকেড বা পলি-ব্লেন্ডের মতো মোটা কাপড়ে তৈরি ‘সাউন্ডপ্রুফ’ পর্দা বাইরের শব্দ ও আলো—দুটোই প্রতিরোধ করতে সক্ষম। দ্বিতীয়ত, দরজা-জানালার ফাঁকফোকর বন্ধ করা জরুরি। দরজা-জানালা বন্ধ থাকলেও কিনারের সূক্ষ্ম ফাঁক দিয়ে শব্দ ও বাতাস প্রবেশ করে। বাজারে পাওয়া ‘ওয়েদারস্ট্রিপিং টেপ’ বা সিলিকন জেল ব্যবহার করে এই ফাটলগুলো বন্ধ করুন। এছাড়া মূল দরজার নিচের ফাঁকা অংশ রুখতে ‘ডোর ড্রাফট স্টপার’ অত্যন্ত কার্যকর, যা একই সঙ্গে শব্দ ও পোকামাকড় ঠেকায়।
তৃতীয়ত, বইয়ের তাক ও আসবাবপত্রের সঠিক বিন্যাস। যে দেয়াল দিয়ে সবচেয়ে বেশি শব্দ আসে, তার বিপরীতে একটি বড় ও ভারী বইয়ের তাক রাখুন। বইভর্তি তাক দেয়ালের আস্তরণ হিসেবে কাজ করে বাইরের শব্দ শোষণ করে নেয়। চতুর্থত, মেঝেতে পুরু কার্পেট বা রাগ বিছিয়ে দিন। খালি মেঝেতে শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়ে জোরালো শোনায়। পুরু কার্পেট বা ফোম প্যাড ব্যবহার করলে ওপর বা নিচতলার শব্দ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
পঞ্চমত, ঘরের ভেতরে গাছপালা রাখুন। ঘন পাতার গাছ কেবল বাতাস বিশুদ্ধ করে না, শব্দ দূষণ কমাতেও ভূমিকা রাখে। জানালা ও বারান্দার কাছে ইনডোর প্ল্যান্ট সাজিয়ে আপনি প্রাকৃতিক শব্দ-প্রতিরোধক দেওয়াল তৈরি করতে পারেন। পরিশেষে, যদি সমস্যা খুব তীব্র হয়, তবে ডাবল-গ্লেজড বা সাউন্ডপ্রুফ ইউপিভিসি (uPVC) জানালা লাগাতে পারেন। দুটি কাঁচের স্তরের মাঝে বাতাস বা গ্যাসের স্তর বাইরের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ শব্দ আটকে দেয়। এই সামান্য পরিবর্তনগুলো আপনার ঘরকে করে তুলবে এক প্রশান্তিময় অভয়ারণ্য।





