টলিউডের অলিখিত ‘বাদশা’ বা অনেকের মতে ‘মাফিয়া’ হিসেবে পরিচিত স্বরূপ বিশ্বাসকে অবশেষে গ্রেফতার করল পুলিশ। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি, শ্লীলতাহানি এবং বেআইনি অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে। রিজেন্ট পার্ক থানায় এক মহিলা মেক-আপ আর্টিস্টের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই নিউ আলিপুর থানা এই অভিযান চালায়।
কাজ চাইলে টাকা, না দিলে ‘ব্যান’! পুলিশ সূত্রে খবর, রিজেন্ট পার্ক এলাকার এক মহিলা মেক-আপ আর্টিস্ট অভিযোগ করেছেন, গিল্ডের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও গত দুই বছর ধরে তাঁকে কাজ পেতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। কাজের সুযোগ পাওয়ার পরিবর্তে তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন স্বরূপ ঘনিষ্ঠরা। অভিযোগ, ওই দাবি মানতে অস্বীকার করলেই কাজ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছিল তাঁকে। এমনকি, নিজের অধিকারের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে জানানোর পরও হুমকি ও প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয় তাঁকে। পরবর্তীকালে অভিনেতা দেবের একটি ছবিতে কাজের সুযোগ পেলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।
টলিউডে ‘থ্রেট কালচার’-এর শিকার অনেকেই স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি টলিউডের দীর্ঘদিনের অন্ধকার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকে। পুলিশের কাছে স্বরূপের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৫টি পৃথক অভিযোগ জমা পড়েছে, যা একত্রিত করে একটিই মামলা রুজু করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের তালিকায় রয়েছেন ২ জন মহিলা এবং ৩ জন পুরুষ। এঁরা সকলেই টালিগঞ্জের ফিল্ম ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত।
কে এই স্বরূপ বিশ্বাস? কাউন্সিলর বা বিধায়ক—কোনও প্রশাসনিক পদ না থাকলেও, টলিউডের অন্দরে স্বরূপ বিশ্বাসের প্রভাব ছিল প্রশ্নাতীত। ফেডারেশনের শীর্ষ পদে থেকে ইন্ডাস্ট্রির কাজ ও শিল্পী নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক ছিল দীর্ঘদিনের। এবার আইনি জালে জড়িয়ে পড়ার পর, টলিপাড়ার সেই ‘অন্ধকার রাজ’ কি শেষ হতে চলেছে? তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
এই গ্রেফতারি টলিউডের ‘থ্রেট কালচার’ ও তোলাবাজি নির্মূলে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।





