মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভায় আসন পাওয়া নিয়ে এবার এক চাঞ্চল্যকর ও কৌতূহল জাগানিয়া প্রস্তাব দিলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র হয়ে রাজনীতির ময়দানে থাকা এই বিতর্কিত নেতা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের এলাকা রেজিনগর থেকে উপনির্বাচনে লড়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে হুমায়ুন কবীর বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সত্যিই বিধানসভায় যেতে চান, তবে আমাকে সরাসরি বলুন। নন্দীগ্রাম থেকে তাঁর পক্ষে জেতা সম্ভব নয়, কিন্তু রেজিনগরে আমি চ্যালেঞ্জ করছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়লে তাঁকে বিপুল ভোটে জেতানোর দায়িত্ব আমার।” তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, রেজিনগরে শেষ কথা বলেন হুমায়ুন কবীরই। তাই নেত্রী যদি তাঁকে একবার আদেশ করেন, তবে বিধানসভায় তাঁর প্রবেশের পথ তিনি সুগম করে দেবেন।
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম থেকে পরাজয়ের পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভার সদস্যপদ নিয়ে নানা মহলে চর্চা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই হুমায়ুন কবীর এই মন্তব্য করেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হুমায়ুন কবীরের এই প্রস্তাব যেমন রাজনৈতিক কৌশলে ভরা, তেমনই এর নেপথ্যে তাঁর নিজের আধিপত্য প্রমাণের চেষ্টাও রয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য কি নিছকই রাজনৈতিক শিষ্টাচার, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ রয়েছে—তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে যে নেত্রী একসময় তাঁকেই দলে বড় দায়িত্ব দিয়েছিলেন, সেই নেত্রীর জয়ের দায়িত্ব নিজে নেওয়ার দাবি হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।





