একজন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ (অঙ্কোলজিস্ট) থেকে রাজ্যের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য—ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ-র এই যাত্রাপথ যে কোনো মানুষের জন্যই অনুপ্রেরণামূলক। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার হাই-প্রোফাইল বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়লাভ এবং পরবর্তীতে রাজ্যের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ—চিকিৎসকের স্টেথোস্কোপ ছেড়ে নবান্নের প্রশাসনিক কর্তব্যের ময়দানে তাঁর এই পথচলা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় ডাঃ খাঁ-র অন্তর্ভুক্তিতে স্পষ্ট, নতুন সরকার মেধা, তারুণ্য এবং পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
নতুন দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁকে স্বাস্থ্য দপ্তরের আমূল পরিবর্তনে অত্যন্ত সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। ‘ইটিভি ভারত’-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাঁর প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হলো সরকারি হাসপাতালে রেফার-রোগ কমানো, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তথাকথিত ‘থ্রেট কালচার’-এর মূলোৎপাটন করাও এখন তাঁর সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে ডাঃ খাঁ বলেন, “তৃণমূল আমলে পশ্চিমবঙ্গে রক্ষকই ছিল ভক্ষক। তৎকালীন সরকারের মদতে দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তা ক্যানসারের মতো সমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছিল।” রাজ্যের স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা নিয়ে সরব হয়ে তিনি জানান, এতদিন হাসপাতালের ভবনগুলোতে কেবল রঙ করা হয়েছে, কিন্তু অত্যাধুনিক চিকিৎসার কোনো পরিকাঠামো ছিল না। তবে এখন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল পশ্চিমবঙ্গ, যা বর্তমানে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
ক্যানসারের মতো ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ডাঃ খাঁ-র পরিকল্পনা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। জেলা হাসপাতাল থেকে মেডিক্যাল কলেজগুলোতে বিনামূল্যে সার্ভিক্যাল ক্যানসারের ভ্যাকসিন এবং অত্যাধুনিক রেডিয়েশন থেরাপির সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার রোডম্যাপ তৈরি করেছে বর্তমান সরকার। শুধু চিকিৎসা নয়, মাদক ও তামাকমুক্ত তরুণ প্রজন্ম গড়তেও তিনি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এআই (AI) এবং হেলথ-টেকের মতো প্রযুক্তির ব্যবহারে রাজ্যের স্বাস্থ্য গবেষণাকে বিশ্বমানের করে তোলাই এখন মন্ত্রীর লক্ষ্য। বিগত সরকারের আমলে গবেষণা বা উদ্ভাবনের নামে কেবল সিন্ডিকেট ও দালালরাজ চলেছে বলে অভিযোগ তাঁর। ডাঃ খাঁ-র কথায়, “আমি ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। মানুষের আশীর্বাদ ও নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী চিন্তাধারাকে সঙ্গী করে পশ্চিমবঙ্গকে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর করে তোলাই আমার জীবনের ব্রত।” চিকিৎসকের এই দৃঢ় মানসিকতা ও প্রশাসনিক তৎপরতা ভবিষ্যতে বাংলার স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশা করছেন সাধারণ মানুষ।





