তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন আর থামছে না। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে এই পুরো প্রক্রিয়াকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অ্যাখ্যা দিয়ে ঝাঁঝালো আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন কুণাল ঘোষ। বুধবার বিধানসভার স্পিকারকে দেওয়া ঋতব্রতর চিঠি এবং বিদ্রোহী বিধায়কদের স্বচ্ছতা নিয়ে রীতিমতো তোপ দাগলেন বেলেঘাটার বিধায়ক।
কুণালের নিশানায় ‘লুকোচুরি’ স্পিকারকে দেওয়া বিরোধী দলনেতার সই করা চিঠি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কুণাল সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “যাঁরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্পিকারকে বিরোধী দলনেতা নিয়ে চিঠি দিলেন, সেই স্বচ্ছতার পূজারীদের জমা দেওয়া চিঠিটা কোথায়? কেন সামনে আসছে না? সই তালিকা গোপন কেন?” তাঁর মতে, বিদ্রোহী বিধায়করা যারা প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্যের ‘মুখোশ’ পরে রয়েছেন, তারাই গোপনে ঋতব্রতকে নেতা হিসেবে মান্যতা দিয়েছেন। এই দ্বিমুখী আচরণ কেন, তা নিয়েই কুণালের তীব্র কটাক্ষ, “মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারবেন আসল কারণ কী?” ‘চাটন-ঋত’ ও ‘বালিশ’ তত্ত্ব ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে কুণাল তাঁকে ‘চাটন-ঋত’ ও ‘পুতুলনাচের পুতুল’ বলে সম্মোধন করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তৃণমূলের টিকিটে জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করে বিধায়ক হয়ে, এক মাসেই এত কথা? যদি পার্টি এতই খারাপ হয়, তবে টিকিট নেওয়ার আগে মনে ছিল না কেন?” শুধু তাই নয়, কুণাল দাবি করেন, নতুন এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতীক হতে পারে ‘বালিশ’। তাঁর কথায়, “তোর সঙ্গে যারা এক বন্ধনীতে, তাদেরও অনেকের বালিশ প্রীতি। তাদের সব কটার ইস্যু ধরে ধরে চিঠি যাবে তদন্তকারীদের কাছে।”
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বনাম ঋতব্রত দশবারের বিধায়ক ও তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে উপেক্ষা করে ঋতব্রতকে নেতা মানার বিষয়টিকে কুণাল ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর অভিযোগ, যারা ঋতব্রতকে মদত দিচ্ছে, তারা আসলে নিজেদের নানা কাণ্ডকারখানা আড়াল করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
তৃণমূলের টিকিটে জিতে যারা দলবদল বা নতুন গোষ্ঠী তৈরির খেলায় নেমেছে, তাদের প্রতি কুণালের বার্তা অত্যন্ত কঠোর—মানুষ এই বিশ্বাসঘাতকতা দেখছে এবং এর জবাব একদিন ঠিকই পাওয়া যাবে। কুণাল ঘোষের এই লাগাতার আক্রমণ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে, ঠিক কতজন বিধায়ক আসলে কার পক্ষে? সেই সংখ্যাতত্ত্বের লড়াই এখন তুঙ্গে।





