কুয়েতে ড্রোন হামলায় প্রাণ হারালেন উজ্জয়িনের মনজুর, বিয়ের আনন্দ নিমেষেই পরিণত হলো শোকের সাগরে!

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারালেন মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনের বাসিন্দা মনজুর আহমেদ (৫০)। দীর্ঘ ৩০ বছর কুয়েতে দর্জির কাজ করে নিজের সংসার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবারের ফেরাটা আর হলো না। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ভাইঝির বিয়েতে যোগ দিতে দেশে ফেরার পথেই ইরান-মার্কিন যুদ্ধের বলি হলেন এই প্রবাসী। বুধবার কুয়েত বিমানবন্দরে এই ভয়াবহ হামলার খবর পৌঁছাতেই উজ্জয়িনের রাজ রয়্যাল কলোনিতে শোকের ছায়া নেমে আসে।

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে যখন মনজুর কুয়েত থেকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আগামী ৮ জুন তাঁর ভাইঝির বিয়ের অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারিত ছিল। পরিবার সূত্রে খবর, বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল, বাড়ির কনেকে হলুদ ও মেহেদি পরানোর অনুষ্ঠানও চলছিল। কিন্তু মনজুরের মৃত্যুর খবর পৌঁছাতেই সমস্ত আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে শোকের কান্নায় বদলে যায়। ছেলে মোহাম্মদ আনাস জানান, শেষবার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল মঙ্গলবার। বাবা অত্যন্ত উত্তেজিত ছিলেন এবং বলেছিলেন, “আমি উজ্জয়িন আসছি, নাগদা স্টেশনে পৌঁছাবো, তোমরা আমাকে নিতে এসো।” কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে সেই সংবর্ধনার বদলে এল বাবার মৃত্যুর সংবাদ।

উল্লেখ্য, মনজুর আহমেদের জীবনটাও ছিল সংগ্রামের। মহাকালেশ্বর মন্দিরের সম্প্রসারণের সময় তাঁর পৈতৃক বাড়িটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠে রাজ রয়্যাল কলোনিতে নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তিনি। শেষবার ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি দেশে এসেছিলেন। সেবার ফেরার আগে পরিবারের সদস্যদের কথা দিয়েছিলেন, এখন থেকে তিনি আরও ঘনঘন উজ্জয়িনে আসবেন। সেই ইচ্ছা পূরণের আগেই যুদ্ধের করাল গ্রাস কেড়ে নিল তাঁর প্রাণ।

বর্তমানে কুয়েতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস মনজুর আহমেদের মরদেহ ভারতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, মরদেহ আকাশপথে গুজরাটের আহমেদাবাদে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু এখানেও এক নতুন সংকটের মুখোমুখি পরিবারটি। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এই পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে ভুগছে। আহমেদাবাদ থেকে দেহটি উজ্জয়িন পর্যন্ত পরিবহনের খরচ বহন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শোকাতুর পরিবারের সদস্যরা এখন মধ্যপ্রদেশ সরকার এবং উজ্জয়িন জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে প্রশাসনিক উদ্যোগে একটি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দেহটি দ্রুত তাদের শহরে ফিরিয়ে আনা যায়। প্রবাসীর মৃত্যুর এই ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy