শোকের ছায়া বিনোদন জগতে! না ফেরার দেশে প্রখ্যাত পরিচালক-প্রযোজক পহেলাজ নিহালানি

বিনোদন জগতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। আজ না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন প্রখ্যাত প্রযোজক ও পরিচালক পহেলাজ নিহালানি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর (তথ্য অনুযায়ী)। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বলিউডের রূপালী পর্দায় তিনি এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র মহলে।

পহেলাজ নিহালানি শুধুমাত্র একজন সফল প্রযোজকই ছিলেন না, বরং তিনি সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC)-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান হিসেবেও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে তিনি ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ পিকচার্স অ্যান্ড টিভি প্রোগ্রাম প্রডিউসার্স’-এর সভাপতি হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা এবং চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটি স্তরে সমাদৃত ছিল।

১৯৮২ সালে ‘হাথকড়ি’ সিনেমার মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে তাঁর পথচলা শুরু হয়। এরপর ১৯৮৫ সালে ‘আঁধি-তুফান’ এবং ১৯৮৬ সালে ‘ইলজাম’ সিনেমার হাত ধরে তিনি সাফল্যের শিখরে পৌঁছান। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘ইলজাম’ সিনেমাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই ছবিটির মাধ্যমেই বলিউডের জনপ্রিয় সুপারস্টার গোবিন্দ প্রথমবার সিনে পর্দায় পা রাখেন। এরপর ১৯৮৭ সালে ‘আগ হি আগ’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি অভিনেতা চাঙ্কি পান্ডেকেও বলিউডে পরিচিতি দেন। এ ছাড়াও ‘গুনাহোঁ কা ফয়সলা’, ‘পাপ কি দুনিয়া’, ‘মিট্টি অউর সোনা’-র মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। নব্বইয়ের দশকের ব্লকবাস্টার হিট ‘শোলা অউর শবনম’ এবং ‘আঁখেঁ’-এর মতো সিনেমা প্রযোজনা করে তিনি বক্স অফিসে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন।

শুধু প্রযোজনাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি। ২০০৮ সালে ‘হাল্লা বোল’ সিনেমায় অতিথি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের প্রতিভার নতুন পরিচয় দিয়েছিলেন। এরপর ২০১২ সালে ‘অবতার’ পরিচালনার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। সেই ছবিতেও মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন গোবিন্দ। একাধারে প্রযোজক, পরিচালক এবং প্রশাসক—তিনটি ক্ষেত্রেই পহেলাজ নিহালানি এক উজ্জ্বল নজির রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বলিউডে এক যুগের অবসান হলো।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy