ভয়ঙ্কর এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম স্টিল প্ল্যান্ট কোয়ার্টার্সের বাসিন্দা। সেক্টর ৮-এর একটি আবাসিক কোয়ার্টারে বুধবার বাথরুমের কমোড থেকে উদ্ধার করা হলো বিশাল আকৃতির এক বিচ্ছু। সাপ ভেবে পরিবারের সদস্যরা যে চরম আতঙ্কে ছিলেন, তা নিরসনে প্রায় এক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা করতে হয়েছে সকলকে।
ঘটনার সূত্রপাত বাথরুম থেকে আসা অদ্ভুত কিছু শব্দকে কেন্দ্র করে। পরিবারের সদস্যরা যখন বাথরুমে ঢোকেন, তখন কমোডের ভেতরে সাপের মতো কিছু একটা নড়াচড়া করতে দেখেন। প্রাণ হারানোর ভয়ে তাঁরা দ্রুত বাথরুমের দরজা বন্ধ করে দেন এবং আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় এক সাপুড়েকে খবর দেন। বিষাক্ত কোনো সাপ মনে করে এলাকাবাসীর মধ্যেও তখন ভীতির সৃষ্টি হয়।
সংবাদ পেয়ে সাপুড়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সতর্কতার সঙ্গে কমোডটি পরীক্ষা করেন। তবে অবাক করে দিয়ে তিনি জানান, ভেতরে কোনো সাপ নেই, বরং একটি বিশাল বিচ্ছু আটকে রয়েছে। বিচ্ছুটি অত্যন্ত সংকীর্ণ স্থানে থাকায় সেটিকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। প্রায় এক ঘণ্টার জটিল এবং কঠোর পরিশ্রমের পর সাপুড়ে সেটিকে অক্ষত অবস্থায় মুক্ত করতে সক্ষম হন। বিচ্ছুটিকে উদ্ধারের পর পরিবার এবং আশপাশের বাসিন্দারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রজাতির বিচ্ছু বা স্করপিয়নফিশ অত্যন্ত অদ্ভুত স্বভাবের হয়। এগুলি প্রায় ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এদের শারীরিক গঠনের বিশেষত্ব হলো—এরা খুব দ্রুত দৌড়াতে পারে, গাছে চড়তে সক্ষম এবং প্রয়োজনের সময় স্বচ্ছন্দে সাঁতারও কাটতে পারে। সাধারণত এরা মানুষের ওপর অকারণে আক্রমণ চালায় না, তবে বিপদের আভাস পেলে বা আত্মরক্ষার প্রয়োজনে এরা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তবে স্বস্তির খবর হলো, এই নির্দিষ্ট প্রজাতির বিচ্ছু বিষাক্ত নয়।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে সজারু ও এই ধরণের বিশেষ প্রাণীগুলি সংরক্ষিত প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, এই প্রাণীগুলিকে শিকার করা, ধরা, হত্যা করা বা পাচার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হলে তিন থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং মোটা অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে। তাই এ ধরণের কোনো প্রাণী নজরে এলে সেটিকে ভয় না পেয়ে বা আঘাত না করে বনদফতর বা অভিজ্ঞ উদ্ধারকারীকে খবর দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশাখাপত্তনমের এই ঘটনাটি এলাকায় যেমন শোরগোল ফেলেছে, তেমনই বন্যপ্রাণী ও মানুষের সহাবস্থান নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।





