মিজোরাম-মিয়ানমার সীমান্তে অবৈধ ব্যবসার জাল ছিঁড়তে বড়সড় অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার সকালে মিজোরামের চাম্ফাই জেলায় একটি সুসংগঠিত চোরাচালান চক্রকে টার্গেট করে ইডি-র আধিকারিকরা নয়টি ভিন্ন স্থানে একযোগে তল্লাশি শুরু করেন। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, মিয়ানমার থেকে বেআইনিভাবে বিপুল পরিমাণ শুকনো সুপারি ভারতে পাচারের পিছনে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাজ করছে।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চোরাচালান চক্রের মূল ঘাঁটি ছিল মিজোরামের চাম্ফাই সীমান্ত এলাকা। মিয়ানমার থেকে টিউ নদী দিয়ে নৌকায় করে এই বিপুল পরিমাণ সুপারি ভারতে নিয়ে আসা হতো। সীমান্ত পার হওয়ার পর সুপারিগুলো স্থানীয় গুদামগুলোতে মজুত করা হতো। এরপর অত্যন্ত কৌশলে জাল ই-ওয়ে বিল এবং নকল কাগজপত্র তৈরি করা হতো। এই সমস্ত ভুয়া নথির মাধ্যমে ওই বিদেশী সুপারিকে ‘স্থানীয় পণ্য’ হিসেবে চালিয়ে দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করা হতো। ইডি-র দাবি, এই চোরাচালান চক্রটি শত শত কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা চালিয়েছে এবং সেই কালো টাকা সাদা করার জন্য একাধিক আর্থিক কারসাজি করা হয়েছিল।
ইডির তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযুক্তরা আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যে নিজেদের বৈধ ব্যবসায়ী হিসেবে তুলে ধরতে স্থানীয় উপজাতীয় পরিচয়ের সুযোগ নিত। শুধু তাই নয়, শুল্ক দফতর বা কাস্টমস যখন সুপারির বড় কোনো চালান বাজেয়াপ্ত করত, তখন অভিযুক্তরা অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে পুরনো বা সম্পর্কহীন আমদানি নথি দেখিয়ে সেই জব্দকৃত মাল ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করত। অর্থাৎ, আইনকে ফাঁকি দিতে তারা নিয়মিতভাবে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল।
বর্তমানে ইডির এই অভিযান ঘিরে সীমান্ত অঞ্চলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে। তল্লাশি চলাকালীন উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ডিজিটাল প্রমাণ। ইডি কর্তাদের ধারণা, এই অভিযান থেকে পাওয়া নথির সূত্র ধরে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালদের হদিশ পাওয়া সম্ভব হবে। অবৈধ পথে আসা এই বিপুল পরিমাণ সুপারি দেশের অর্থনীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে, তা খতিয়ে দেখতেই এই বিশেষ তদন্ত শুরু হয়েছে। ইডি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে যে, আগামী দিনে এই মামলায় আরও বড় গ্রেফতারি বা নতুন কোনো মোড় আসতে পারে। অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।





