ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল বিহারের মুজফ্ফরপুর জেলা। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্রসাদ হাসপাতালে আজ ভোররাতে আচমকাই আগুন লাগে। আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তের মধ্যে হাসপাতালের পাঁচ তলায় অবস্থিত আইসিইউ (ICU) বিভাগে ছড়িয়ে পড়ে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জন রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজ এখনো চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
দমকল সূত্রে খবর, আজ ভোররাত ৩টে ৫৫ মিনিট নাগাদ প্রথম আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। আইসিইউ বিভাগে অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে বহু মুমূর্ষু রোগী ভর্তি ছিলেন। আগুনের তীব্রতায় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোগীদের স্বজনদের আর্তনাদে হাসপাতাল চত্বর ভারী হয়ে ওঠে। দমকলকর্মীরা প্রায় দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আইসিইউ থেকে প্রায় ১৫-২০ জন রোগীকে সুরক্ষিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের তড়িঘড়ি নিকটবর্তী অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
মুজফ্ফরপুর দমকল বিভাগের আধিকারিক রাম নিবাস পান্ডে জানিয়েছেন, “আমরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালিয়েছি। দুর্ভাগ্যবশত, ঘটনাস্থলেই দু’জন মারা যান এবং পরবর্তী সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চার হয়েছে। বাকিদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় অন্যত্র ভর্তি করা হয়েছে।” প্রাথমিক তদন্তে দমকলের ধারণা, শর্ট সার্কিটের কারণেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে আগুনের উৎসস্থল সঠিকভাবে নির্ণয় করতে এবং কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুজফ্ফরপুরের জেলাশাসক সুব্রত কুমার সেন জানিয়েছেন, আইসিইউ ছাড়াও হাসপাতালের সিসিইউ (CCU) বিভাগে রোগী ভর্তি ছিলেন। পুরো ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ বা পরিকাঠামোয় কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, মাত্র একদিন আগেই দিল্লির মালব্য নগরের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যু এবং ২৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বিহারের এই হাসপাতাল কাণ্ড আবারও চিকিৎসা পরিকাঠামোয় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই নির্ধারিত নিয়মের বাইরে গিয়ে হাসপাতাল বা হোটেল পরিচালনার ফলে যে ধরনের বিপদ আসন্ন, তা এই দুই ঘটনাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। মুজফ্ফরপুরবাসীর দাবি, দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।





