অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মণের গ্রেফতারি নিয়ে এবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কেন মূল অভিযুক্তকে বাগে আনতে পারল না পুলিশ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি। আদালতের এমন কড়া অবস্থানের মুখে পড়ে নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। সূত্রের খবর, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে আদালতের এই রোষের পর এবার পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন খোদ রাজ্যের ডিজিপি (DGP)।
হাইকোর্টে কী ঘটল? সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি জানতে চান, অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ এখনও কেন পুলিশের নাগালের বাইরে? পুলিশ যদি চাইত, তাহলে অনেক আগেই তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করেন আদালত। কেন এখনও গ্রেফতারি সম্পন্ন হয়নি, তার সদুত্তর দিতে না পারায় পুলিশের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। বিচারপতির স্পষ্ট নির্দেশ, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
ডিজিপির আশ্বাস: আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর পরিস্থিতি এখন উত্তপ্ত। ডিজিপি জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে চূড়ান্ত অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাবে বলে দাবি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ: ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধীরা দাবি তুলেছেন, প্রভাবশালী হওয়ার কারণেই কি বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে আড়াল করার চেষ্টা করছে পুলিশ? যদিও পুলিশ প্রশাসন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থানের পর, পুলিশ এখন কতটা দ্রুত প্রশান্ত বর্মণকে গ্রেফতার করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বড় বিষয়।
আইনি মহলের মতে, হাইকোর্টের এই ধরনের পর্যবেক্ষণ মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ কোনো বড় পদক্ষেপ নেয় কি না।





