রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত মিলছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তৃণমূলের অন্তত ৫৮ জন বিধায়ক বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন এবং তাঁদের পক্ষ থেকে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মাঝেই আরও বড় চমক, দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়: একুশের নির্বাচনের পর থেকে বারবার বিভিন্ন মহলে তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা শোনা গেলেও, ৫৮ জন বিধায়কের সরাসরি বিদ্রোহের খবর তৃণমূলের ভিত্তি কাঁপিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের অন্দরে ‘পুরানো বনাম নতুন’ বা নেতৃত্বের লড়াই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোতেই এই বড় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
ঋতব্রতর নতুন ভূমিকা: দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিরোধী দলনেতা হিসেবে উত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য বিধানসভায় তিনি এখন বিরোধী শিবিরের মুখ হয়ে উঠলেন। বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর এই নতুন দায়িত্ব যে বিধানসভার অন্দরে তৃণমূল সরকারকে প্রতি পদক্ষেপে অস্বস্তিতে ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।
প্রশাসনিক সংকট: এতজন বিধায়কের বিদ্রোহের ফলে রাজ্যের বর্তমান সরকার কি সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে চাপে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে রাজনৈতিক অলিগলিতে। যদি সত্যিই ৫৮ জন বিধায়ক দলত্যাগ করেন বা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানান, তবে রাজ্যের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সরকার এই বিদ্রোহ কীভাবে সামাল দেয়, নাকি দল ভাঙার এই স্রোত রাজ্যকে এক নতুন নির্বাচনের দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় গোটা রাজ্যবাসী।





