শিক্ষানগরী পটনায় খান স্যারের কোচিং সেন্টারের বাইরে ঘটে যাওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতি এখন নতুন মোড় নিয়েছে। প্রথমে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠলেও, পরে সেই দাবি থেকে সরে এসেছেন স্বয়ং খান স্যার। এই ঘটনা নিয়ে পুলিশ ও খান স্যারের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
খান স্যারের বক্তব্যে রদবদল প্রাথমিকভাবে খান স্যার দাবি করেছিলেন যে, তাঁর কোচিং সেন্টারের বাইরে গুলি চালানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তাঁর সুর কিছুটা ভিন্ন। বুধবার সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, সেই সময় পরিবেশ এতটাই অস্থির ছিল যে তিনি স্পষ্ট কিছু বুঝতে পারেননি। নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে যা শুনেছিলেন, সেটাই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। খান স্যারের দাবি, তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন এটি একটি সাধারণ ঘটনা, কিন্তু পরে বুঝতে পারেন বিষয়টি গুরুতর। তিনি জানিয়েছেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং নাম উল্লেখ করে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনাস্থলে একটি বোমা ফাটানো হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
পুলিশের বয়ান কী? অন্যদিকে, পুলিশের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাটনা পুলিশ গুলি চালানোর অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। পুলিশের স্পষ্ট বক্তব্য, দায়ের করা এফআইআর-এ কোথাও গুলি চালানোর কোনো উল্লেখ নেই। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, এটি নিছক দুটি কোচিং সেন্টারের মধ্যকার বিবাদ। জ্ঞানবিন্দু কোচিং সেন্টারের পরিচালকের নির্দেশে তাঁর কর্মীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আতঙ্কের ছায়া প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য খান স্যারের কোচিং সেন্টার শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার পড়ুয়ার সমাগম হয়। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, এটিই প্রথম নয়; এর আগে ২০১৯ সালের ১০ মে খান স্যারের কোচিং সেন্টারের বাইরে পরপর দুটি বোমা ছোঁড়ার ঘটনা ঘটেছিল, যা সেই সময় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।
বর্তমানে পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। দুটি কোচিং সেন্টারের মধ্যে এই সংঘাতের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা তদন্তের পরেই পরিষ্কার হবে।





