রাজ্যের জনপ্রিয় সরকারি প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এ বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য পুরুষেরাও যে ‘লক্ষ্মী’ সেজে বসেছিলেন, তার একের পর এক প্রমাণ মিলছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। এই ঘটনায় শাসকদলের নেতা-কর্মীদের একাংশের যোগসাজশ থাকার অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
সম্প্রতি নদিয়ার কৃষ্ণনগর ২ ব্লকে ১৭৩ জন এমন পুরুষের হদিশ মিলেছে, যারা নিয়ম বহির্ভূতভাবে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিলেন। বিডিও অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই ব্লকের তালিকায় তাঁদের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল এবং এতদিন ধরে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি টাকা জমাও পড়েছে। বিষয়টি নজরে আসতেই ওই ১৭৩ জন পুরুষ উপভোক্তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। এই অনিয়মের ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে ভোলা শীল নামের বিডিও অফিসের এক কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ভোলা শীল শাসকদল তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক। অভিযুক্তের পরিবারের অবশ্য দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এর নেপথ্যে প্রশাসনের একাংশও জড়িত।
শুধু নদিয়াই নয়, মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরেও সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগ। নুন নাহার বিবি নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, ২০২০ সালে আবেদন করার পরেও তিনি প্রকল্পের কোনো টাকা পাননি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নুন নাহারের নামে বরাদ্দ টাকা নিয়মিত জমা পড়ছে তাঁরই প্রতিবেশী গোলাম মোর্তাজার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। অভিযুক্ত গোলাম মোর্তাজার দাবি, তিনি জানতেনই না যে তাঁর অ্যাকাউন্টে অন্য কারো টাকা ঢুকছে। কিন্তু এই ঘটনায় সরকারি প্রকল্পের টাকা তছরুপের বিষয়টি স্পষ্ট হতেই বিরোধী দল বিজেপি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে। বিজেপির দাবি, শাসকদলের নেতারা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য টাকা লুটেপুটে খাচ্ছেন এবং এই টাকা তাদের ফেরত দিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (বিরোধী দলনেতা হিসেবে) এই প্রসঙ্গ টেনে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার লুঠ করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পাশাপাশি হাজার হাজার তৃণমূল নেতা, যারা এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত নন, তাঁরাও টাকা হাতিয়েছেন। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেস ট্রান্সফার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাউকে ছাড়া হবে না।” রাজ্যের এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পে যখন একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। প্রশাসনের দাবি, প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং যোগ্য উপভোক্তারা যাতে কোনোভাবে বঞ্চিত না হন, তার জন্য জেলা প্রশাসনকে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





