তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা বর্তমান ডামাডোল এবার আছড়ে পড়ল ছাত্র সংগঠনের অন্দরেও। ‘মুষলদহ’ পর্বের ছায়া এবার স্পষ্ট টিএমসিপি (TMCP)-র অন্দরে। মমতার পাশে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েও কর্মীদের রাস্তায় নামাতে রীতিমতো ব্যর্থ রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। সোশাল মিডিয়ায় ফাঁস হওয়া এক বিস্ফোরক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ঘিরে এখন শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে।
ওয়াই চ্যানেল (Y Channel)-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান কর্মসূচিতে কর্মীদের ভিড় বাড়ানোর জন্য বারবার বার্তা দেওয়া হয়েছিল সংগঠনের তরফে। কিন্তু গ্রুপে হাজারো বার আর্জি জানানো সত্ত্বেও কর্মীদের মধ্যে চূড়ান্ত অনীহা স্পষ্ট। শিয়ালদহ সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার স্তূপ ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার পরই যেন ছাত্র সংগঠনের ভিত কেঁপে উঠেছে। ওই ঘটনার পর থেকেই টিএমসিপি কর্মীদের মনোবল তলানিতে ঠেকেছে।
ফাঁস হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে দেখা যাচ্ছে, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য দীর্ঘ বার্তায় কর্মীদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আবেদন করছেন। তার পাল্টা জবাব দিতে গিয়েই কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, “রাস্তায় নামব কার অভয়ে?” কর্মীদের অভিযোগ, সংকটের মুহূর্তে সংগঠনের কোনো নেতাকেই পাশে পাওয়া যায় না। জেলার পার্টি অফিসগুলোর দরজায় ঝুলছে তালা। কর্মীদের স্পষ্ট প্রশ্ন, “নেতারা যেখানে নিজেদের ঘর বাঁচাতেই ব্যস্ত, সেখানে ছাত্রকর্মীরা কেন বিপদ মাথায় নিয়ে পথে নামবে?”
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অন্দরের এই ক্ষোভের মুখে পড়ে রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুরকে গ্রুপেই আক্ষেপ করতে শোনা গিয়েছে, “তাহলে কি আমি ব্যর্থ সভাপতি?” তাঁর এই প্রশ্নই বলে দিচ্ছে, ছাত্র সংগঠনের অন্দরে নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা দ্রুত হারিয়েছে।
এই চরম অব্যবস্থার বিষয়ে টিএমসিপি রাজ্য সম্পাদক অভিরূপ চক্রবর্তী বলেন, “বর্তমানে দলের কোনো স্পষ্ট স্ট্যান্ড পয়েন্ট নেই। কোনো আন্দোলনের কর্মসূচিও নেই। দলের এই ভরাডুবির পর ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন জায়গায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, কিন্তু পার্টির কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। যারা দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতি করেছেন, তারাও এখন মানসিক অবসাদে ভুগছেন। বাধ্য হয়েই এখন তারা ছাত্ররাজনীতি ছেড়ে ক্যারিয়ারের দিকে নজর দিতে চাইছেন।”
একদিকে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে উদ্ধার হওয়া উইপোকা খাওয়া লক্ষ লক্ষ টাকা ও আগ্নেয়াস্ত্র, আর অন্যদিকে সংগঠনের অন্দরে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কর্মীদের এই বিদ্রোহ—সব মিলিয়ে রাজ্যের শাসকদলের ছাত্র সংগঠন এখন এক কঠিন অস্তিত্বের সংকটের মুখে। প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের এই ‘অসহযোগিতা’র আবহে মমতা-অভিষেক কি আদৌ কোনো ছাত্র আন্দোলন চাঙ্গা করতে পারবেন, নাকি টিএমসিপি-র পতন এখন সময়ের অপেক্ষা?





