বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে ঐতিহাসিক জয়ের পর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ। সরকার গঠনের পথে পা বাড়ানো বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সোমবার দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল নেতাদের দলে নেওয়ার জল্পনা কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ হওয়ার কোনো অবকাশ নেই এবং দলত্যাগী তৃণমূল নেতাদের জন্য বিজেপির দরজা চিরতরে বন্ধ।
২০৭ আসনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল যে, পরাজিত তৃণমূলের অনেক নেতা এবার স্রোতের অনুকূলে অর্থাৎ গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাতে পারেন। কিন্তু শমীক ভট্টাচার্য এই সম্ভাবনাকে এক কথায় নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমরা কাউকে আমদানি করে এই বিপুল জয় পাইনি। জনগণ তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধেই রায় দিয়েছে। যাঁদের গায়ে দুর্নীতির দাগ লেগে আছে, তাঁদের দলে নেওয়া আমাদের আদর্শের পরিপন্থী।”
এর আগে শমীক ভট্টাচার্য কিছু তৃণমূল নেতাকে ‘ভালো’ বলে অভিহিত করেছিলেন, যা নিয়ে প্রবল গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। এর ফলে তৃণমূলের একাংশ ‘ভালো তৃণমূল’ সাজার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছিলেন। কিন্তু সোমবারের এই বিবৃতিতে সেই জল্পনার আগুনে জল ঢেলে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বিজেপির এই সাফল্য বুথ স্তর থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত দলীয় সংগঠন ও জনগণের রায়। কোনো ‘আমদানি করা’ নেতা বা জোড়াতালি দেওয়া কৌশলে এই সাফল্য আসেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীক ভট্টাচার্যের এই কড়া অবস্থান তৃণমূলের ভেতরে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। নির্বাচনের পর দলত্যাগের যে হিড়িক পড়ার সম্ভাবনা ছিল, তা থেকে তৃণমূল কর্মীদের নিবৃত্ত করতে এবং দলের পুরোনো কর্মীদের মধ্যে বিজেপির বিশ্বাসযোগ্যতা অটুট রাখতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূল স্তরের কর্মীদের চাঙ্গা করে সংগঠন আরও শক্তিশালী করাটাই এখন বিজেপির মূল লক্ষ্য।





