পহেলগাম হামলার তদন্তে নয়া মোড়! লস্কর-হামাস আঁতাত কি ভারতের জন্য নতুন বিপদ?

জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটকদের ওপর চালানো নৃশংস জঙ্গিহানার তদন্তে এবার এমন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা ভারতের নিরাপত্তা মহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এতদিন এই হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-এ-তইবা এবং তার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিসট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-এর নাম শোনা গেলেও, এবার তদন্তের পরিধি আন্তর্জাতিক স্তরে বিস্তার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। এনআইএ-র সাম্প্রতিক চার্জশিটে গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘হামাস’-এর সঙ্গে এই হামলার সম্ভাব্য যোগসূত্রের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন গোয়েন্দারা হামাসের দিকে আঙুল তুলছেন? তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, পহেলগামের বৈসরণ উপত্যকায় পর্যটকদের লক্ষ্য করে যে পদ্ধতিতে হামলা চালানো হয়েছিল, তার রণকৌশল ও নিখুঁত ধাঁচ হামাসের হামলার পদ্ধতির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এমনকি পহেলগাম ঘটনার পরেই ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই হামলার ধরন নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিল। গোয়েন্দাদের সন্দেহের তালিকায় থাকা আরও একটি বড় কারণ হলো, হামলার ঠিক পরপরই পাকিস্তানের মাটিতে হামাসের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে খবর, লস্কর-এ-তইবার মঞ্চে হামাসের শীর্ষ নেতা নাজি জাহিরের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, পাক জঙ্গি সংগঠন এবং গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে এক গোপন আঁতাত তৈরি হয়েছে।

গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগামে চালানো সেই রক্তক্ষয়ী হামলায় ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই ঘটনার পরেই ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন মহাদেব’ শুরু করে। এই অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া দুটি মোবাইল ফোন থেকেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের দাবি, উদ্ধার হওয়া একটি ফোন পাকিস্তানের করাচির একটি নামী ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে কেনা হয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, এই নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কটি দীর্ঘকাল ধরেই লস্কর-এ-তইবার আর্থিক লেনদেনের মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অতীতে আল-কায়েদার ঘনিষ্ঠ কুয়েতের জঙ্গি সংগঠন ‘লাজনত-আল-দাওয়া’-র সঙ্গেও এই ব্যাঙ্কের গোপন যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে, পহেলগাম হামলা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক অর্থ ও রণকৌশলগত নেটওয়ার্কের ফসল। করাচির ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা ব্যবহার করে যেভাবে লস্কর ও হামাসের মতো সংগঠনগুলি একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, তা এনআইএ-র তদন্তে স্পষ্ট। এখন প্রশ্ন উঠছে, তবে কি গাজার সংকটের আঁচ এবার ভারতের উপত্যকায় সরাসরি পড়তে শুরু করেছে? এনআইএ এখন খতিয়ে দেখছে, হামাস কেবল প্রত্যক্ষ মদত দিয়েছে, নাকি এই হামলা পরিচালনার জন্য তারা প্রযুক্তিগত ও কৌশলী সহায়তাও প্রদান করেছে। সব মিলিয়ে পহেলগাম কাণ্ড এখন কেবল জম্মু-কাশ্মীরের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা এক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy