“মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল!”-বিজেপির জয় নিয়ে যা বললেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের এই বড় ব্যবধানে হার নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়, তখন দলীয় সাংসদ ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল। গেরুয়া শিবিরের জয়ের নেপথ্যে বিজেপির চার হেভিওয়েট নেতার মুখকেই যে মানুষ গুরুত্ব দিয়েছে, তা খোলাখুলি স্বীকার করে নিলেন হুগলির এই সাংসদ।

কী বললেন রচনা? একটি সংবাদমাধ্যমের সাথে সাক্ষাৎকারে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমি ট্রোল ক্যুইন, তাই হয়তো ফের ট্রোলের শিকার হব। কিন্তু বাস্তব এটাই, সাধারণ মানুষ কোনো প্রার্থীর নাম জানত না। তারা শুধু পদ্মফুল চিহ্ন দেখেছে এবং ভোট দিয়েছে। রাজ্যের চারজন মুখ—নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, শুভেন্দু অধিকারী এবং শমীক ভট্টাচার্য—তাঁদের দেখেই মানুষ বিজেপির ওপর আস্থা রেখেছে।’’

মানুষের মনে কী ছিল? নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে যে বিপুল মানুষের ভিড় তিনি দেখেছিলেন, তা নিয়ে রচনা বলেন, ‘‘রাস্তায় লাখ লাখ মানুষের ভিড় দেখে আমরা অবাক হচ্ছিলাম। কিন্তু পরে বুঝলাম, মানুষের মুখে এক আর মনে অন্য ছিল। সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের দেখলেও, তাদের মনের অন্দরে ছিল পদ্মফুলের প্রতি আগ্রহ।’’

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে না দিলেও, তৃণমূলের এই পরাজয়কে তিনি পুরোপুরি ‘ভোট চুরি’ বলতে নারাজ। বরং সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও পরিবর্তনের চাহিদাই বিজেপির জয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী-সাংসদ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় তৃণমূলের টিকিটে জিতেও দলের অন্দরের ব্যর্থতা নিয়ে রচনার এই ‘সততা’ ভালো চোখে দেখছে না শাসকদলের একাংশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তবে ‘পাল্টি’ খাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন? যদিও অভিনেত্রী নিজের অবস্থানে অনড়।

বাংলার বিনোদন জগতের জনপ্রিয় মুখ এবং হুগলির সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তাঁর এই সাহসী মন্তব্য যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার বিষয়, নিজের দলের নেতাদের সমালোচনা করে এই মন্তব্যের জেরে শেষ পর্যন্ত তাঁকে কোনো রাজনৈতিক জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয় কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy