একসময় পাঞ্জাবের সরকারি স্কুলগুলোর করুণ দশা নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের উদ্বেগের শেষ ছিল না। ২০১৬-১৭ সালে শিক্ষা সূচকে ২২তম স্থানে থাকা পাঞ্জাব ২০১৮-১৯ সালে ২৬তম এবং ২০২০ সালে ২৭তম স্থানে নেমে গিয়েছিল। পরিকাঠামোর অভাব আর সীমিত সুযোগের বেড়াজালে সরকারি স্কুলের মেধাবী পড়ুয়ারা তাদের স্বপ্ন হারাতো। তবে ২০২২ সালে শাসনভার পরিবর্তনের পর পাঞ্জাবের শিক্ষাব্যবস্থায় এক আমূল রূপান্তর ঘটে। মাত্র চার বছরে নীতি আয়োগের ‘শিক্ষার গুণমান প্রতিবেদন ২০২৬’ অনুযায়ী, পাঞ্জাব কেরালা ও দিল্লির মতো রাজ্যগুলোকে পেছনে ফেলে দেশে শীর্ষস্থান দখল করেছে।
এই পরিসংখ্যান বিস্ময়কর। নীতি আয়োগের রিপোর্ট বলছে, পাঞ্জাবের তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়ারা ভাষায় ৮২ শতাংশ দক্ষতা অর্জন করেছে, যেখানে কেরালা পিছিয়ে আছে ৭৫ শতাংশে। গণিতেও পাঞ্জাব (৭৮ শতাংশ) কেরালাকে (৭০ শতাংশ) ছাড়িয়ে গেছে। নবম শ্রেণির গণিতের পারদর্শিতায় পাঞ্জাবের ৫২ শতাংশ স্কোর প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন দিশা দেখিয়েছে। বর্তমানে পাঞ্জাবের ৯৯.৯ শতাংশ সরকারি স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ৯৯ শতাংশ স্কুলে কম্পিউটার রয়েছে। ৮০ শতাংশেরও বেশি স্কুলে এখন স্মার্ট ক্লাসরুম, যা প্রতিবেশী রাজ্য হরিয়ানার (৫০.৩ শতাংশ) তুলনায় অনেক এগিয়ে।
মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মানের নেতৃত্বে শিক্ষাকে কেবল একটি সরকারি বিভাগ হিসেবে না রেখে, তাকে গণআন্দোলনে রূপান্তর করা হয়েছে। শিক্ষকদের ফিনল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে বিশ্বের সেরা শিক্ষা পদ্ধতি পাঞ্জাবের প্রতিটি গ্রামে পৌঁছায়। এর ফলও মিলছে হাতেনাতে—এ বছর সরকারি স্কুলের ৭৮৬ জন ছাত্রছাত্রী JEE Main এবং ১,২৮৪ জন NEET পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইতিহাস গড়েছে।
সরকার ১৩,০০০-এরও বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি ৩ লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য ‘ইংলিশ এজ’ কর্মসূচি চালু করেছে। রাজ্যের ১১৮টি অত্যাধুনিক ‘স্কুল অফ এমিনেন্স’ আজ পাঞ্জাবের নতুন পরিচিতি। আজ পাঞ্জাবের গ্রামগুলোতে অভিভাবকরা গর্বের সঙ্গে জানান, তাঁদের সন্তান সরকারি স্কুলে পড়ছে। বিজ্ঞাপন বা স্লোগান নয়, বরং ল্যাব, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের হাত ধরে পাঞ্জাব প্রমাণ করেছে যে, সদিচ্ছা থাকলে মাত্র কয়েক বছরেই ইতিহাস বদলে দেওয়া সম্ভব। শিক্ষার এই বিপ্লব শুধু পাঞ্জাবের বর্তমান নয়, বরং এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে।





